বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়ায় বছরের পর বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর খাস জমির চরের মাটি অবৈধভাবে কাটার ফলে তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষের ভিটেমাটি ও ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে এবং দিনদুপুরে ট্রলার ও পল্টনে ভেকু (এস্কেভেটর) বসিয়ে অব্যাহতভাবে মাটিকাটা চলছিল। তবে এবার স্থানীয় জনতা ও সাংবাদিকদের তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়েছে সেই মাটি খেকো চক্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে ট্রলারে করে মাটি কাটলেও গত ছয় মাস ধরে চক্রটি পল্টনের ওপর ভেকু বসিয়ে আরও ভয়াবহভাবে খাস জমির মাটি কেটে আসছিল। রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কারবার। পল্টনের ভেকু দিয়ে মাটি কেটে তা সরাসরি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হতো। প্রতিদিন রাতারাতি লাখ লাখ টাকার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল পল্টন ও ভেকুর মালিকরা, যার খেসারত দিতে হচ্ছিল নদীর পাড়ের অসহায় মানুষদের।
তবে "চোরের ১০ দিন, গৃহস্থের ১ দিন"—এই প্রবাদের মতোই অবসান ঘটেছে তাদের অবৈধ সাম্রাজ্যের। গত ২৪ জুলাই, প্রকাশ্যে চরের মাটি কাটার সময় স্থানীয় জনতা ও সাংবাদিকরা হাতেনাতে পল্টন ও ভেকুটি আটকে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বানারীপাড়া থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলে ভেকুতে প্রচুর মাটিসহ অবৈধ কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০'-এর ধারা (১) অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত আনিচকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত পল্টন ও ভেকুটি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে জনসম্মুখে উন্মুক্ত নিলামের ব্যবস্থা করা হয়। উপস্থিত জনসাধারণের সামনে অনুষ্ঠিত ওই উন্মুক্ত নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০ লাখ টাকায় বেকু ও পল্টনটি কিনে নেন এক ব্যক্তি। নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই সময়োপযোগী ও শক্ত পদক্ষেপের পর বানারীপাড়ার জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বানারীপাড়াবাসী প্রশাসনের এই কার্যক্রমে চরম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নদীর পাড়ে মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান যেন ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকে। একই সাথে, যারা প্রকৃতির ক্ষতি করে নিজেদের পকেট ভারী করছে এবং মানুষকে নিঃস্ব করছে, সেই মাটি খেকো চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।