জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার মাটি ভরাটে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তকালে ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও তার লোকজনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন এবং এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে এবং পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের স্বজনশ্রী রাস্তার মোড়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘময়না গ্রামের রাস্তায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাটের কাজ পান স্থানীয় ইউপি সদস্য তেরা মিয়া। কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। এর প্রেক্ষিতে বাঘময়না গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করতে ইউএনও’র নির্দেশে ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শিমুল আলী ঘটনাস্থলে যান। তদন্ত চলাকালে অনিয়মের বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে মেম্বার তেরা মিয়া ও তার লোকজনের সাথে একই গ্রামের মিলাদুর রহমান ও জাকির হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে মেম্বারের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে মিলাদুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে স্বজনশ্রী রাস্তার মোড়ে জাকির হোসেনের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হামলার শিকার বাদী জাকির হোসেন বলেন, "বাড়ি ফেরার পথে তেরা মেম্বার ও তার লোকজন রাতে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।"
অপর বাদী মিলাদুর রহমান বলেন, "সরকারি কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পিআইও স্যারের তদন্ত চলাকালেই মেম্বারের লোকজন প্রকাশ্যে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
তবে অভিযোগের বিষয়ে মেম্বার তেরা মিয়া বলেন, "তারা আগে আমার ওপর হামলা করেছে, পরে আমরা পাল্টা জবাব দিয়েছি। থানায় দুটি অভিযোগের কথা আমি জেনেছি।"
তদন্তের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শিমুল আলী জানান, "ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি তদন্তে গিয়েছিলাম। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় তদন্ত স্থগিত রেখে আমাকে চলে আসতে হয়েছে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, "সংবাদের পর পরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তদন্তকালে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"