ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
খাবার ও সুপেয় পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে টানা ১১ দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকা থেকে অন্তত ১১ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছেন বেঁচে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায়।
ইতিমধ্যে নিহত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন—শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা।
মিশরে চিকিৎসাধীন বেঁচে যাওয়া যাত্রী সুনামগঞ্জের পাথারিয়া গ্রামের আবদুল করিমের বরাত দিয়ে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দূতাবাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে একটি রাবারের নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়। যাত্রী ধারণক্ষমতা মাত্র ২৫ জন হলেও পাচারকারীরা অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে একটি মাত্র ইঞ্জিনের ওপর ভরসা করে নৌকাটি ভাসিয়ে দেয়। পথিমধ্যে ইঞ্জিন বিকল হয়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকে নৌকাটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল করিম জানান, সাগরে খাবার ও পানি ছাড়া দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার কারণে অনাহার, তীব্র ডিহাইড্রেশন ও প্রখর রোদে একে একে ১০ সহযাত্রী মারা যান। পরবর্তীতে তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। ১১ দিন ভেসে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৯-৩০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।