নিজস্ব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ন্যামতপুর ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদুজ্জামান ওরফে ফারুক মাস্টারের বাড়িতে অনশন করছেন জোসনা আক্তার নামে এক নারী। স্বীকৃতি না পেলে ওই বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফারুক মাস্টারের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন জোসনা আক্তার। এ সময় তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল ছায়েদুজ্জামান ওরফে ফারুক মাস্টার তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাকে নিজ বাড়িতে রেখে সংসার করেছেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানেও তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে গেছেন। তবে পরবর্তীতে ফারুক মাস্টার তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ করেন জোসনা।
জোসনা আক্তারের আরও অভিযোগ, ফারুক মাস্টার বিভিন্ন কৌশলে তার জমিজমা ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া তিনি সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জোসনা আক্তার বলেন, “আমি স্ত্রী হিসেবে সামাজিক ও আইনগত স্বীকৃতি চাই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমার সঙ্গে সংসার করেছেন। এখন আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমার দাবি মেনে নেওয়া না হলে এই বাড়িতেই আত্মহত্যা করব।”
স্থানীয় বাসিন্দা খুরশিদ মিয়া (৬০) বলেন, ফারুক মাস্টার বিভিন্ন সময় জোসনা আক্তারকে তার বাড়িতে নিয়ে আসতেন। সেখানে তাকে খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রাম করতে দেখা গেছে।
প্রতিবেশী জমেলা (৬৫) বলেন, ফারুক মাস্টার জোসনাকে বিয়ে করেছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মতো সংসার করতে দেখেছেন। অনেকবার একই খাটে অবস্থান করতেও দেখেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত তিন থেকে পাঁচ বছর ধরে ফারুক মাস্টার ও জোসনা আক্তারের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় আলোচিত। অনেকেই তাদের বিয়ে হয়েছে বলে ধারণা করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও এতদিন কেউ প্রকাশ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে জোসনা আক্তারের অনশন ও আত্মহত্যার হুমকির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি অনশনরত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদুজ্জামান ওরফে ফারুক মাস্টারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
তবে তার বাড়ির দেয়ালে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দেখা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করছেন।
উল্লেখ্য, জোসনা আক্তারের করা বিয়ে, সম্পত্তি, গর্ভপাতসহ অন্যান্য অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।