অথই নূরুল আমিন:
আমাদের রাজনীতি, সমাজ এবং চিন্তাচর্চার এতটাই অধঃপতন হয়েছে, এখানে কেউ কারো প্রশংসা করছি না। ভিন্ন মতের হলে তিনি যতই সম্মানিত থাকুন না কেন? আজকে কোনভাবেই অংক করে মেলাতে পারছি না। কোথায় আমাদের শিক্ষা, কোথায় আমাদের পারিবারিক আদর্শ। কোথায় নৈতিকতা?
স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনীতি অঙ্গনে হাজারো বিতর্কের তুফান বয়ে চলছে। এমনকি আমাদের সমাজে ধর্মীয় অঙ্গনে পর্যন্ত বিতর্ক চলে। বড়ো বড়ো মাওলানা আলেম মুফতি যুক্তিবাদী নিয়েও কটাক্ষ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি পীর মাশায়েক ওলি আউলিয়া নিয়েও নোংরা মন্তব্য শুনতে হচ্ছে। এ যেন খুবই দুঃখজনক।
একজন মানুষ কিন্তু জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। সম্মান অর্জন করতে চান। সম্মানিত হতে চান। সম্মানিত থাকতে চান। তবে কেন তা হচ্ছে? এরকম প্রশ্নের উত্তর বের করে আনা খুবই কঠিন। নোংরা ভাষা আর অপমান জনিত কথাবার্তা বর্তমানে যেন আরো প্রকট। যেমন ধর্মীয় অঙ্গনে তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ধর্মীয় অঙ্গনে যেমন ভিন্ন মত হলে একজন আরেকজনকে কোনভাবেই পছন্দ করছে না। এ ক্ষেত্রে এমনও কথা উঠে আছে বলে ও কোন মানুষই না। আর রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন মত নিয়ে প্রতিদিন ঝগড়া লেগেই আছে। এমনকি খুন - খারাপির মত ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।
এখানে একপেশে সব চলছে। ভিন্ন মতের একজন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী তারা শত ভালো কাজ করলেও। আরেক পক্ষ তা মেনে নিতে পারছে না। আমাদের সমাজে স্বার্থ হইল আসল ব্যাপার। ভিন্ন মত ভিন্ন পেশা ভিন্ন মেধা চর্চা থাকতে পারে। তাই বলে একজন জ্ঞানী বা বিচক্ষণ কোনো ব্যক্তির ইজ্জত হরণ করা কি ঠিক?
আমরা জাতিগত ঐক্য যতদিন না হতে পারব ততদিন পর্য দেশ সুন্দর হবে না। হতেও পারে না। মোট কথা আমরা গুণের কদর করতে জানি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে। আমরা গোটা জাতিটাই বেয়াদব। যার ফলে সর্ব জায়গায় বেয়াদবি চলছে। যেমন এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য। সেই পক্ষের অনুসারীরা জঘন্য মিথ্যা ও বানোয়াট কথা তৈরী করতে ব্যস্ত থাকে।
শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদ স্যার বলেছেন, "পৃথিবীর অধিকাংশ মহাপুরুষ এখনাে বিতর্কিত, কোন গাধা সম্পর্কে পৃথিবীর কোনাে প্রান্তে কোনা বিতর্ক নেই। প্লাতাে-আরিস্ততল থেকে মার্ক্স-রবীন্দ্রনাথ আজো বিতর্কিত। প্লাতােকে এখনাে প্রতিদিন অনেকেই বাতিলের চেষ্টা করে, মার্ক্সকে শারীরিকভাবে আক্রমণের চিন্তা করে অনেকে, রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ক্ষোভের শেষ নেই অনেকের। বিতর্কিত ব্যক্তিরা পৃথিবীকে বদলে দেয়, অবিতর্কিতরা উপভােগ করে, যেমন চতুষ্পদগণ উপভােগ করে খড়-বিচুলি-ঘাস"।
এরকম ভাবে পৃথিবী চলছে। যাযা একটু মাথা উঁচু করবেন। অনেক কষ্ট করে। সেখান কিছু কুত্তার বাচ্চা এসেই উল্টাপাল্টা ঘেউ ঘেউ শুরু করবে। বিশেষ করে আমাদের সমাজে কেউ কাউকে বড়ো হতে দিতে চাইনি বলে আজকে গোটা জাতি বিভাজন। এমনকি আত্মীয় স্বজন পর্যন্ত।
বিশেষ করে বাংলাদেশ আজকে শিক্ষায় ধিক্কায় জনবলে পরিপূর্ণ এক দেশ। পরনিন্দা পরচর্চা গীবত গাওয়া বন্ধ করা জরুরি। একজন মানি লোকের সম্মান রক্ষা সকলের দায়িত্ব। তিনি যে ধর্মের হোক বা হোক কোন রাজনৈতিক দলের, মিডিয়া অথবা সমাজ সেবক। একজন সম্মানি লোকের সম্মান নষ্ট করা এটা কোনো ধর্ম সমাজ বা রাজনৈতিক দল কেউই সমর্থন করে বলে মনে হয় না। কথায় আছে সম্মান দিলেই সম্মান পাওয়া যায়।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।