অথই নূরুল আমিন:
গত ছয় মাস ধরে বিএনপি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে। এখানে তাদের বেশকিছু ব্যর্থতা নিয়ে অনেক জনগণ সমালোচনা করছে। সেদিন বিরোধী দল সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে। অনেকেই বলছে বিএনপি তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে কিনা সন্দেহ হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি খুব নিখুঁত ভাবে লক্ষ্য করে দেখলাম। বিএনপি সরকার, দুষ্টু আওয়ামী লীগ নিয়ে সরকারের নমনীয় ভাব। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বা বতর্মান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ থেকে আওয়ামী লীগের বদনাম বা কুৎসা রটনা করে কোনো বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন না এমনকি ফেসবুকসহ অনলাইন প্রচারে তিনি বা বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনরকম নিষেধাজ্ঞা ও দিচ্ছেন না। এখানে বিএনপি সরকার বা তারেক রহমান এখন পর্যন্ত খুবই বড়ো মনের পরিচয় বহন করে চলেছেন।
আমরা দেখেছি বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় ছিলো স্বয়ং শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম, ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের মুখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওরা যতগুলো কথা বলতো, তার বেশিরভাগ কথাই বলতো বিএনপির বদনাম করে। গালগল্প করে। যেসকল কথা শুনে দেশের অসংখ্য জনগণ ওদেরকে মন থেকে ঘৃণা করতেন। যা এখনো অনেকেই করছেন।
ক্ষমতায় গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা ও কিন্তু একধরনের অন্যায় বা অবিচার। ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ। এরকম একটি বাক্য আওয়ামী লীগ কখনও প্রয়োগ করেনি কোথাও। বিএনপিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে তাদের নেতাকর্মীদের প্রতি চরম অবিচার করেছিল সেদিন আওয়ামী লীগ।
আমি আমার লেখনির মাধ্যমে সেদিনও প্রতিবাদ করেছিলাম। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামটি পরিবর্তন না করার জন্য। জিয়ার কবরটা না সরানোর জন্য। ( ৫৬ নং পৃষ্টা " প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা " গ্রন্থ ) মূলত আমি কিন্তু কখনও বিএনপি মনা ছিলাম না এমনকি আজও না, আগামীতে ও না। আমার কাছে আওয়ামী লীগের এমন সিদ্ধান্ত গুলোকে প্রতিহিংসার সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল। ভুল সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল। আমার বহু লেখার মাঝে উল্লেখ ছিলো বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০২৪ এর ৪ আগস্ট পর্যন্ত।যে বিএনপি কোনদিন ক্ষমতায় আসবে না আসলে এমনটি নয়। তাই আওয়ামী লীগ নিয়ে তখনকার সময় সমালোচনা করতে গিয়ে তাদের অসংখ্য কাজ নিয়ে প্রতিবাদী লেখা লিখেছিলাম। যদিও আমি কোনো গুষ্ঠির কাজ থেকে কোন স্বার্থ হাসিল করার চিন্তা কখনও করি না। " প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা " বইয়ের ২২ নং পৃষ্টায় " ধান কাটা ছাত্রলীগ বনাম প্রকৃত ছাত্রলীগ " শিরোনামের লেখায় ছাত্রলীগ বন্ধ করতে বলেছিলাম। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে। একই বইয়ের ১৮ নং পৃষ্টায় " ডাঃ দীপু মনি অযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী " শিরোনামে বড়ো কলাম লিখেছিলাম। যে বইটি দেশের অসংখ্য পাঠাগার সামাজিক ও সাহিত্য সংগঠনে রয়েছে।
অন্য দিকে ৩০ জুলাই ২০২৪ একটি সাহসী কলাম লিখেছিলাম, "" জামায়াত - শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে, খবরটা আজকে যেন হাস্যকর " বইয়ের নাম " আমার যুদ্ধ কলমে, পৃষ্টা নং ২৬। আজকের দিনে বই পড়ার পাঠক নেই বিধায়। বতর্মান সরকার বা বিরোধী দলের কেউ বই পড়ছে না। আর আমাদেরকে ও ডাকা হচ্ছে না কোন আয়োজনে। ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, যে দেশে গুণের কদর নেই, সেই দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।
আমার লেখা ঐ সকল বইগুলো সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বতর্মান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান, এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলামসহ দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদেরকে সৌজন্য কপি বা উপহার কপি দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তাদের ভুলগুলো উপস্থাপন করতে গিয়ে প্রায় পাঁচশর বেশি রচনা বা কলাম ফিচার প্রবন্ধ লিখেছি। শতাধিক পত্রিকায় তা প্রকাশও করেছি। কিন্তু আমাকে আজও কোন রাজনৈতিক দল বলছে না। আমি তাদের লোক, না আওয়ামী লীগ না বিএনপি না জামায়াত - এনসিপি। একটি অমূল্য জীবন সমাজের অবহেলায় আজকে মূল্যহীন! হায়রে দেশ হায়রে সমাজ। তেল মারা জানিনা বিধায় তোষামোদ করা ঘৃণা করি বিধায় গোটা জাতির কাছে অবহেলার শিকার। চলবে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।