অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এক মাঠকর্মীকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আলী রহমান খাঁনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যাংকের মাঠকর্মী মো. আব্দুস ছাত্তার (৩৮) অষ্টগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ওই অভিযোগে আলী রহমান খাঁনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাঠকর্মী আব্দুস ছাত্তার। এ সময় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আলী রহমান খাঁন ব্যাংক কার্যালয়ে গিয়ে রেহানা বেগম নামের এক গ্রাহকের ঋণের সুপারিশ করার জন্য তাকে চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আলী রহমান খাঁন ছাত্তারের শার্টের কলার ধরে তাকে চেপে ধরেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্তারের চিৎকার শুনে ব্যাংকের অন্য কর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আলী রহমান খাঁন তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের যেকোনো এলাকায় গেলে তোকে মেরে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব।” ঘটনার সময় ব্যাংকের অন্য কর্মীরা উপস্থিত থাকায় তিনি রক্ষা পান বলে দাবি করেন আব্দুস ছাত্তার।
আব্দুস ছাত্তার বলেন, “ঋণের সুপারিশের জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে আমার শার্টের কলার ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলী রহমান খাঁন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ঋণগ্রহীতা আমার ভাইয়ের স্ত্রী। ঋণ পরিশোধে সমস্যা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আমি ব্যাংক অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে কথা-কাটাকাটি হলেও আমি তাকে মারধর বা কোনো ধরনের আঘাত করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “পরে ব্যাংক কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
অষ্টগ্রাম উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনা বলেন, “ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। পরে আলী রহমান খাঁন ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভুল স্বীকার করেছেন। এরপর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। বিষয়টি সমাধান না হলে জেলা যুবদলকে জানানো হবে। দলীয়ভাবে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা মেনে নেওয়া হবে।”
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।