আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টার:
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ৩ নম্বর পাইকুরাটি ইউনিয়নেও এর ব্যতিক্রম নয়। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মো. মহসিন তালুকদারের নাম ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কেন মহসিন তালুকদারকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাইছেন তারা? তার প্রতি এই আগ্রহের পেছনে কি রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ, মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা, নাকি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা?
স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে কয়েকটি কারণ।
মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগঃ
পাইকুরাটি ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহসিন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারেন এবং বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেন, জনপ্রতিনিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারা। তাদের দাবি, মহসিন তালুকদারের দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
মহসিন তালুকদার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নিজ উপজেলায় চাকরি করেছেন বলে জানা গেছে। চাকরির সুবাদে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি এলাকার মানুষের বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এ কারণে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনে তার চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
তবে তার এই অভিজ্ঞতা নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে ভোটারদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ওপর।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহসিন তালুকদারকে নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন ভোটার জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিচিত মুখ হওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের একটি অংশের ভাষ্য, মহসিন তালুকদার চাকরিজীবনে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন। অবসরের পরও তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ কারণে তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী তারা।
তবে মাঠপর্যায়ে এমন মতও রয়েছে যে, শুধু ব্যক্তিগত পরিচিতি বা সামাজিক যোগাযোগ নয়—নির্বাচনের সময় একজন প্রার্থীর পরিকল্পনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, মানুষের কাছে জবাবদিহিতা এবং ইউনিয়নের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে তার অবস্থানও ভোটাররা বিবেচনা করবেন।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভাটগাও গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, “মহসিন তালুকদারকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তিনি মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন। তবে আমরা চাই, নির্বাচনের আগে তিনি ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন"।
সুনই গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহসিন তালুকদারের কোন গুণ বা কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ তাকে পছন্দ করেন এবং চেয়ারম্যান হলে তার কাছে জনগণের কী প্রত্যাশা সেটা আমরা তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী হওয়ার পরই দৃশ্যমান হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে মো. মহসিন তালুকদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “জনগণের চাওয়াই আমার চাওয়া। জনগণ যেহেতু বিভিন্ন সময়ে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, আমিও জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। পাইকুরাটি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, স্মার্ট, মাদক ও জুয়ামুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”
তার বক্তব্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কাজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, পাইকুরাটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলেও নির্বাচনী মাঠ এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। ফলে বর্তমানে কোনো প্রার্থীর জনসমর্থন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
মহসিন তালুকদারের ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ ও চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতার বিষয়টি স্থানীয়দের আলোচনায় থাকলেও নির্বাচনের সময় অন্যান্য প্রার্থীদের অবস্থান, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ এবং ভোটারদের প্রত্যাশা পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিতে পারে।
পাইকুরাটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মো. মহসিন তালুকদারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশের আগ্রহ আপাতত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তার প্রতি এই আগ্রহ নির্বাচনী মাঠে কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে সময়ের সঙ্গে তার প্রচারণা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থানের ওপর।
শেষ পর্যন্ত কারও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার দাবি নয়, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের প্রকৃত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে পাইকুরাটি ইউনিয়নের পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন।