ঝলক দত্ত, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ
‘নতুন চিন্তা, নতুন সৃষ্টি, বিজ্ঞানই আমাদের আসল শক্তি’এই প্রতিপাদ্য যেন বাস্তব রূপ পেল শ্রীমঙ্গলের সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা আর উদ্ভাবনী ভাবনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। নানা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর মডেল নিয়ে বসে ৫৮টি স্টল। প্রতিটি স্টলেই ছিল নতুন কিছু করার চেষ্টা, ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে ফিতা কেটে বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরএনডিএম সিস্টার সংগীতা গমেজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, মডেল ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী সম্পর্কে খোঁজ নেন।
সহকারী শিক্ষক কাজলী গোস্বামী ও সাদিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং তাদের চিন্তা, অনুসন্ধান, সমস্যা সমাধান ও নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
বিজ্ঞান মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন, শ্রীমঙ্গল নটর ডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ফাদার প্রশান্ত নিকোলাস ক্রুশ, সেন্ট মার্থাস কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরএনডিএম সিস্টার সুপ্রীতি কস্তা, বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি জনক দেববর্মা ও আইভি জেনিফার রায়।
মেলার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন ও হাজী আব্দুল গফুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ শিক্ষক মিন্টু পাল।
মেলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মোট ৫৮টি স্টল স্থাপন করা হয়। এসব স্টলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প, উদ্ভাবনী ধারণা ও ব্যবহারিক মডেল প্রদর্শন করে। নিজেদের তৈরি প্রকল্পের কার্যকারিতা ও বৈশিষ্ট্য অতিথি ও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে তারা।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা আরও বিকশিত হবে এবং তাদের মধ্য থেকেই একদিন উঠে আসবে নতুন নতুন উদ্ভাবক।