মোঃ নাদিরুজ্জামান
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় মসজিদজাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল হক খন্দকারকে শোকজ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে প্রধান শিক্ষকের কাছে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
শোকজ নোটিশের স্মারক নম্বর ৩৮.০১.৪৮০২.০০০.০০.০২০,২০২৬.২৩৫।
নোটিশে বলা হয়েছে, এহেন পরিস্থিতিতে কেন তার/তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে কোনো ব্যর্থতা ছাড়াই দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ‘৪টার ছুটি ২টায়, শিক্ষা অফিসারই জানেন না’ শিরোনামে এটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রধান শিক্ষকের জন্মদিন পালনের পর নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে মসজিদজাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ ছিল, প্রধান শিক্ষক শহিদুল হক খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষেই জন্মদিন পালন করা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল হক খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুপুর ২টায় ছুটি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে, তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি না জানানোর কথাও স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ঘটনার বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসও জানিয়েছিলেন, শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে মিটিং করে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হবে।
এটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত নোটিশে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে বলে নোটিশের ভাষ্য থেকে জানা যায়।
এ ঘটনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও শ্রেণী কার্যক্রম যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন শোকজের জবাবে প্রধান শিক্ষক কী ব্যাখ্যা দেন এবং কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল হক খন্দকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।