বিশেষ প্রতিবেদন:
সরকারি দায়িত্বের নিয়ম মেনে মানুষ এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে স্থানান্তরিত হয়, কিন্তু কিছু মানুষ তাদের কর্মের গণ্ডি পেরিয়ে অধীনস্থ বা সহকর্মীদের হৃদয়ে এমন এক স্থায়ী আসন তৈরি করে নেন যা কোনো দাপ্তরিক আদেশে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তেমনি একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত (উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিনিয়র সহকারী সচিব) জনাব মোঃ মাহমাদুল হাসান (১৮৬২২) স্যার। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
প্রিয় স্যারের এই বিদায়লগ্নে মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন তাঁর অত্যন্ত স্নেহভাজন মোঃ মশিউর রহমান।
মশিউর রহমান তাঁর আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "মোঃ মাহমাদুল হাসান স্যার কেবল একজন দক্ষ সরকারি কর্মকর্তাই নন, তিনি ছিলেন একজন মানবিক গুণসম্পন্ন অসাধারণ মানুষ। কর্মক্ষেত্রে তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাঁর প্রতিটি নির্দেশনার মধ্যে কাজের কঠোরতার চেয়ে মায়া, মমতা ও দিকনির্দেশনাই আমি বেশি পেয়েছি। একজন অভিভাবক যেভাবে তাঁর সন্তানকে আগলে রাখেন এবং ভুলত্রুটি শুধরে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগান, স্যারও ঠিক তেমনিভাবে আমাকে সবসময় স্নেহ দেখিয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "স্যারের কাজের প্রতি সততা, একাগ্রতা এবং সাধারণ মানুষের সেবা করার মানসিকতা আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর মতো একজন মানবিক ও হৃদয়বান স্যারের সান্নিধ্য পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। কর্মক্ষেত্রের প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে তিনি যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং আমাকে যে স্নেহ ও ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে রেখেছিলেন, তা আমার স্মৃতিতে আজীবন অম্লান থাকবে। স্যারের এই নতুন পথচলায় আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।"
বদলি সরকারি চাকুরির একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, মাহমাদুল হাসান স্যারের মতো একজন দরদী মেন্টর ও অভিভাবককে বিদায় জানানো মশিউর রহমানের জন্য অত্যন্ত বেদনার। তবে মশিউর রহমান বিশ্বাস করেন, নতুন কর্মস্থলেও স্যার তাঁর মেধা, সততা এবং অনন্য মানবিক গুণাবলী দিয়ে সবার হৃদয় জয় করবেন এবং দেশের সেবায় আরও বড় অবদান রাখবেন।
প্রতিবেদক: মোঃ মশিউর রহমান