অথই নূরুল আমিন:
অর্থ লোভ আমাকে আমার নীতি ও আদর্শ থেকে একচুলও নড়াতে পারেনি দীর্ঘ তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে । আমি একজন মুক্তচিন্তার লেখক আলোচক ও কঠিন সমালোচক । যখন যেখানে ভালো দেখেছি তাই লিখেছি। মন্দ দেখেছি তাও লিখেছি। কেমন হয়েছে আমার সেই সখল লেখা। এসব মূল্যায়ন সময় এখনো আসেনি। তা মূল্যায়ন করবেন পাঠক এবং সময়। সাদাকে সাদা বলা কালোকে কালো বলা, এরকম লেখালেখি করে প্রায় চল্লিশটির বেশি বই লিখেছি যদিও। তবু ও কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে কিন্তু খুব কাছের বা খুব প্রিয় হতে পারিনি কারো। আমার এসব লেখালেখি পড়ে কোন মন্ত্রী, এমপি, নেতা বা নেত্রী আজও কেউ যোগাযোগ করেনি । ভালো মন্দ কিছুই বলেনি। আমি তার কারণ ও জানি। যেমন মিষ্টি না ছিটালে পিঁপড়া আসে না। ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয় না। আমার লেখায় আসলে মিষ্টির পরিমাণ যেমন কম। ভাতের পরিমাণ তো আরো কম।
এখানে মানুষ চায় কেউ তার প্রশংসা করুক। প্রশংসা তো অবশ্যই করবে কেউ না কেউ। আমি ও করব। এবং অনেক ক্ষেত্রে করেছিও। তবে আপনি প্রশংসার কাজ না করলে, আমি একজন লেখক হয়ে প্রশংসা করতে কি পারি? না, পারি না। আমার সকল লেখাই বই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে আরো হয়তো হবে । আরো হয়তো লিখব । বইগুলো কপিরাইট আইনে দায়বদ্ধ করা হচ্ছে। প্রকাশিত বইয়ের আইএসবিএন নম্বর থাকছে। একটি বই শত বছর, এমনকি হাজার বছর পর্যন্ত পাঠকের চোখের সামনে থাকে। এরকম লেখাই লিখতে হয়। যে লেখার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে যুগ থেকে যুগান্তর প্রকৃত একজন লেখকের তাই হওয়া উচিৎ ।
বর্তমান সরকার বিএনপি, জামায়াত - এনসিপিসহ বাংলাদেশে এমন কোন রাজনৈতিক দল নেই। আমি তাদের সদস্য বা আমি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী লেখক। এমন কথা কোন রাজনৈতিক দল বা অন্য কোন গুষ্ঠি বলতে পারবে না। আমি প্রায় তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে লেখালেখি করে আসছি সাহিত্য অঙ্গনে। যেমন কবিতা, ছড়া,ছোট গল্প,বাণী ও রূপকথার গল্পসহ ইত্যাদি লেখা । তবে রাজনৈতিক লেখাই কিন্তু আমার সবচেয়ে বেশি। কথা থাকে যে, রাজনীতি করে কিন্তু আমার চোখের সামনে অসংখ্য বন্ধু কোটিপতি হয়ে গেছে রাতারাতি। আমি কিন্তু সেই রকম চিন্তা কখনও করিনি । আসলে এগুলো আমার কাছে ভালো লাগে না। অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে আমি মোটেই আগ্রহী নই।
বিগত পনেরো বছর আওয়ামী লীগ একটানা ক্ষমতায় ছিলো। আওয়ামী লীগ নিয়েও আমি তাদের পক্ষে- বিপক্ষে অসংখ্য লেখালেখি করেছি। সেই লেখাগুলো নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও প্রকাশ হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের এমন কোন মন্ত্রী, এমপি অথবা নেতা নেই, আমাকে ফোন করে কোনো আরজি পেশ করতে পেরেছে কখনও বা করেছে কখনও। তার মানে আওয়ামী লীগের ভুলগুলো নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেখালেখি সম্ভবত আমিই করেছি । আমি তেল মেরে লেখালেখি করি না। তাই রাজনীতি অঙ্গনে আমার কোন বড় ভাই নেই। এবং আমি কোনো গুষ্ঠি বা কোনো মন্ত্রী এমপির কাছ থেকে কোনো সুবিধা কখনও গ্রহণ করিনি। কেউ তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না।
রাজনীতি অঙ্গনে আমার বড়ো ভাই কেন নেই। তার প্রধান কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিলো, তখন আমি কারো গা ঘেসে দাঁড়াইনি, এমনকি কোনো সেলফি পর্যন্ত তুলিনি কারো সাথে এবং কারো কাছে আমি কখনও কোন সহযোগিতা আশা করিনি। ২০১৩ সাল থেকেই অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকে আমি ঘৃণা করতাম, তখনই তাদেরকে নিয়ে তাদের ভুলগুলো নিয়ে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে লেখালেখি করেছি হরদম । আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তখন থেকেই অসংখ্য লেখালেখি এবং বই প্রকাশ করেছি। যা ছিলো দুঃসাহসী কাজ। ওরা এরপর ভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছিল তখনকার সময়ে তাদের বিপক্ষে কোন কথা বললেও ওরা ক্ষেপে যেত। আওয়ামী লীগ মনে করত তারা কোন ভুল করে না। তাই ভিন্ন মতের জনগণ কে ওরা কখনও মেনে নিতে পারতো না।
আজকে আওয়ামী লীগ পলাতক। কিন্তু আমি সেই সকল লেখার কোনো ক্রেডিট নিতে চাই না। অন্য কারো কাছ থেকে। না বিএনপির কাছ থেকে, না জামায়াতের কাছ থেকে, না এনসিপিরসহ অন্য কোনো গুষ্ঠি বা রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে । আমি আমার মতো স্বাধীন জীবনযাপন করি। কাউকে তোষামোদ করার মন মানসিকতা আমার তখনও ছিল না এখনো নেই। দেশের মধ্যে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের মগজে পচন ধরেছে। ওরা খুব সহজেই বিকি হয়ে যাচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক। তবে বতর্মান বিএনপি সরকার যদি চায়। রাষ্ট্র উন্নয়ন, সমাজের সামাজিক উন্নয়ন,বেকারত্ব কমিয়ে আনা ও কর্মমুখী পুনর্বাসনের উপরে আমি( অবৈতনিক ) পরামর্শ প্রদান করতে পারি। বা সরকার চাইলে। প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা হয়ে দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শ প্রদান করতে পারি। তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমারও কোনো আপত্তি নেই। কারণ রাষ্ট্র উন্নয়নে কর্ম দক্ষতা বৃদ্ধিতে যেহেতু গবেষণা করেছি।তা দেশের কল্যাণে ব্যয় করব। এটা আমার চাওয়া। তবে কোনো বিনিময়ে নয়।
একজন মানুষের সবচেয়ে বড়ো পরিচয় তার নৈতিক চরিত্র। সমাজ এবং সামাজিকভাবে জীবনযাপন করবে, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবে। অথচ অনেক বড়ো বড়ো ডিগ্রীধারীরাও অন্যের হুকুমের গোলাম হয়ে যাচ্ছে সহসা। আহা।
সবচেয়ে বড়ো কথা " রাজনৈতিক অঙ্গনে আমার কোনো বড়ো ভাই নেই " যখন তখন ফোন দিলে চলে আসতে হবে কোথাও। এমন বড়ো ভাই আমি সৃষ্টিই করিনি কখনও। বাংলাদেশের যেকোনো রাজনৈতিক দল, সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করতে আমি ইচ্ছুক। এরই মধ্যে বেশ কিছু পত্রিকার উপদেষ্টা বা পৃষ্ঠপোষক পদে আছি। বেশকিছু সংগঠনের সাথেও কাজ করছি। দেশের অসংখ্য বেসরকারী পাঠাগারের পৃষ্ঠপোষক - উপদেষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যকরী সদস্য হিসেবে ও কাজ করে যাচ্ছি। আসুন সবাই মিলে দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলি। " ভালোর জায়গায় ভালো থাক, মন্দ সব নিপাত যাক "।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৫৫৬৫০৭১৩৪,