বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ৭ নং তেতলা মৌজায় দীর্ঘ ৪৫ বছর ভোগদখলে থাকা জমি উদ্ধারের পর তার একাংশ স্থানীয় মসজিদে দান করেছেন প্রকৃত মালিক।
জানা গেছে, তেতলা মৌজার এসএ ১২২ খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক চাঁদবরুর কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে শাহসের আলী ও তাঁর ছেলেরা জমিটির স্বত্ব পান। পরবর্তীতে তাঁদের নিকট থেকে দুটি খণ্ড দলিলে মোট সাড়ে ১২ কাঠা জমির মালিক হন মোঃ ওয়াজেদ আলী মিয়া (পিতা: নবীর উদ্দিন ঘরামী)। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের রাজনৈতিক প্রভাবে স্থানীয় হুমায়ুন কবির (গাজী) মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই পরিবারের সাড়ে ১২ কাঠা জমির মধ্য থেকে ৮ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ওয়াজেদ আলী মিয়ার পরিবার ও হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর জমি উদ্ধারে উদ্যোগী হন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিগোচর হলে তাঁদের মধ্যস্থতায় শেরেবাংলা বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বানারীপাড়া উপজেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সালিশে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও জমি পরিমাপের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচজন অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার—আউয়ার নিবাসী মোঃ সাইদুর রহমান, তেতলা নিবাসী বিজয় মহুরী, নান্দুহার নিবাসী মহারাজ, শুটিয়াকাঠী নিবাসী জসিম এবং বাইশারী নিবাসী মোঃ আঃ খালেক—যৌথভাবে জমি জরিপ করেন। পরবর্তীতে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর (২রা আশ্বিন) বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সরজমিনে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হুমায়ুনের মুরগির ফার্মের একটি অংশ রাসেলের জমির ভেতরে পড়ায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিশেষ বিবেচনায় পশ্চিম সীমানা থেকে ৮ ফুট চওড়া করে উত্তর সীমানা পর্যন্ত জায়গা তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দক্ষিণের সীমানা রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত সমন্বয় করে রাসেল হুজুরকে তাঁর ৮ কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ন্যায্য অধিকার ফেরত পেয়ে হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল হুজুর উদ্ধারকৃত জমির মধ্য থেকে ৭ শতাংশ সম্পত্তি স্থানীয় মসজিদের নামে দান করে দেন, যেখানে বর্তমানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পাঞ্জেগানা নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন পর জবরদখলকৃত জমি উদ্ধার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।