
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বনগাঁও-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। তবে ছবিটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও ঘটনার সত্যতা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা বর্তমানে গর্ভবতী। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত মন্তব্য, অপমানজনক বক্তব্য বা অযাচাই তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান, শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেগুলোও যথাযথভাবে তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কারও কাছে ছবি, ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য সংবাদমাধ্যমকে সরবরাহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এক অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
জানা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নবনীতা সিনহা প্রায় ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে অন্তঃসত্ত্বা। শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়ার সময় হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা ও অস্বস্তি বোধ করায় তিনি কিছুটা স্বস্তির জন্য টেবিলের ওপর মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই মুহূর্তে এক কথিত সাংবাদিক বিনা অনুমতিতে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং শিক্ষিকার অসুস্থতার কারণ না জেনেই গোপনে তাঁর ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই বিষয়টিকে একজন অসুস্থ শিক্ষিকার 'মানহানি' এবং সামাজিক মাধ্যমে সস্তা ভিউ বা প্রচার পাওয়ার জন্য করা একটি গর্হিত কাজ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষিকা যদি কোনো অনিয়ম করতেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে অসুস্থ শিক্ষিকার ছবি তুলে প্রচার করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা হতে পারে না।
দেশে বর্তমানে যেভাবে মোবাইল হাতে অপসাংবাদিকতা এবং শিক্ষকদের হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা রোধে 'শিক্ষক সুরক্ষা আইন' বাস্তবায়নের জোর দাবি তুলেছেন শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ নাগরিকরা। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। সচেতন সমাজ এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।