আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টার:
তাড়াইলের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বমঞ্চে কিশোরগঞ্জের তরুণ মাহি আলম (রাতুল)। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বখ্যাত ‘ব্ল্যাক হ্যাট এমইএ—ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ (CTF)’ প্রতিযোগিতার মূল ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচটি দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
তাড়াইলের এক তরুণ কীভাবে পৌঁছে গেলেন বিশ্বের শীর্ষ সাইবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে স্থানীয়দের মধ্যে।
প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে রিয়াদের মূল মঞ্চে
আয়োজক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি রাউন্ডে বিপুলসংখ্যক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও দল অংশ নেয়। সেখান থেকে বাছাই করা সেরা ১৫০টি দল রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছে।
আগামী ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতাটির ফাইনাল পর্ব। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও প্রতিযোগীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মাহি আলম।
এটি শুধু গতানুগতিক কোনো প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নয়। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগীদের মোকাবিলা করতে হবে বিভিন্ন জটিল সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে—
ওয়েব এক্সপ্লয়টেশন
সিস্টেম এক্সপ্লয়টেশন (PWN)
ডিজিটাল ফরেনসিকস
রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং
ক্রিপ্টোগ্রাফি
অ্যাটাক হ্যাকিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান।
এসব ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, প্রয়োজন হবে দ্রুত বিশ্লেষণ, সমস্যা শনাক্তকরণ এবং নির্ভুল সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা।
মাহি আলম (রাতুল) বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তিনি তাড়াইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আশরাফুল আলম রুবেলের ছেলে।
স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।
তাড়াইলের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের কাছেও মাহির এই যাত্রা নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রিয়াদের চূড়ান্ত মঞ্চে নিজের দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে বাংলাদেশের পতাকাকে আন্তর্জাতিক সাইবার অঙ্গনে আরও দৃশ্যমান করবেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা এখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল ফাইনালে বাংলাদেশের একটি দল বা দলের সদস্য হিসেবে মাহি আলমের অংশগ্রহণ তাই তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দেশের তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলে ধরারও একটি সুযোগ।
তাড়াইলের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে রিয়াদের আন্তর্জাতিক মঞ্চ—মাহি আলমের এই যাত্রার শেষটা কোথায়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।