স্টাফ রিপোর্টার :
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ও বিদ্যালয়ের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. নূরুল হক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন—মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহীন উদ্দিন এবং ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল হেকিম।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পবিত্র ভূষণ সরকার বাদী হয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহীন উদ্দিন, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল হেকিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বিদ্যালয়ের সেশন ফি, পরীক্ষা ফি, টিউশন ফি ও শিক্ষার্থীদের বেতন বাবদ আদায় করা অর্থ বিদ্যালয়ের সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের হিসাব নম্বরে জমা করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচের কথা উল্লেখ করে ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের কাজের কথা বলে উত্তোলন করা প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
পরে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য আদালত গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ডিবির পরিদর্শক হযরত আলী গত ১৯ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহীন উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি আব্দুল হেকিমের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে মামলার বাদী দাবি করেন।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর রোববার দুই আসামি জামিনের জন্য আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বাদী পবিত্র ভূষণ সরকার বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার তারা জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।