অথই নূরুল আমিন:
বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, এটা বিরোধী দলের অধিকার। কিন্তু সঠিকভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করবে দেশের একটা সরকার এটা কিন্তু দেশের প্রায় সকল জনগণের চাওয়া এবং পাওয়া থাকে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়। আমাদের দেশে জনগণ কিন্তু সবসময়, মতান্তরে তিন ধরনের হয়ে থাকে । যেমন সরকার পক্ষের জনগণ থাকে একটা পক্ষ । তারা সরকারের ভালো কাজেও হ্যা, সরকারের মন্দ কাজেও হ্যা শব্দ উচ্চারণ করেই থাকে সবসময় । এমনকি অনেক বিজ্ঞজনেরা সরকার পক্ষের জনগণ থাকলে অসংখ্য যুক্তিও দেখিয়ে দেন বিভিন্ন আলোচনায়। এটা এই কারণে সেটা সেই কারণে ইত্যাদি ইত্যাদি।
অন্যদিকে বিরোধী দলের সমর্থক যেসকল জনগণ আছেন। তারা কিন্তু বিরোধী দলীয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষায় টুট মিলিয়ে সরকারের সমালোচনা করেই যান সবসময় । কথা থাকে যে, সবসময় একটা সরকারের পক্ষে দেশের মাত্র ৫% - ৬% জনগণ পক্ষে থাকে মাত্র। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন কমিটিতে আছেন। মুল দল এবং অঙ্গ সংগঠনসহ ইত্যাদি সংগঠন । এখানে তৃণমূল ভোটার বা মিছিল মিটিংয়ের জনগণ কিন্তু হাওলাতি হয়ে থাকে সবসময় ।
অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষে থাকা জনগণের কথা যদি বলি তা আরো নগণ্য। এককথায় দেশের ভূক্তভোগী প্রায় ৬০% জনগণ কিন্তু থাকে সবসময় দর্শকের ভূমিকায় । আর এই দর্শক শ্রেণির জনগণের দেখা শোনা করা, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করার দায়িত্ব কিন্তু থাকে একমাত্র সরকারের উপরে বর্ধিত। তবে দেশের বতর্মানে প্রায় ২০% জনগণ এখন আর সরকারের কোন তোয়াক্কা করে না। যেমন যারা ধনী শ্রেণি বা প্রবাসী যারা আছেন । তারা তাদের মতো নীরবে নিভৃতে জীবনযাপন করে থাকেন । আরো কথা থাকে যে,একটি সরকার যখন দেশের ভুক্তভোগী ৬০% জনগণের মন জয় করতে সক্ষম হতে থাকে ধীরে ধীরে সরকারের বিভিন্ন কাজ কর্মে। তখনই সরকারের সুনাম ছড়িয়ে যায় দেশে - বিদেশে পর্যন্ত । তখনই সেই সরকার দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রচুর । আর তখনই বিরোধী দলের গলার স্বর নরম হতে থাকে।
দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, একটি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যদি পণ্যের মূল্য বাড়তে থাকে সীমাহীন থেকে লাগামহীন ভাবে। তখন কিন্তু নিজ দলীয় ভোটার ও সমর্থক তারাও কিন্তু নীরবে সরকারের বিরোধী হতে থাকে ধীরে ধীরে । আর তখনই একটি সরকার জনগণ থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। এটা বলছি দলের তৃণমূল সমর্থকদের কথা। এখানে বতর্মান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ সহকারিগণেরা কিন্তু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বা দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নেই, এরকম বিষয় গুলো কিন্তু তাদের নাগাল পাবে না। তাই তারা পদত্যাগও কেউ করবেন না।
আজকে পদত্যাগ করেছেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি নামে একজন। এই পদত্যাগ কিন্তু না লাভ জনগণের। না লোকসান সরকারের। বিএনপি এতো বড়ো একটি রাজনৈতিক দল। এখানে এরকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা আরো দুই চারটা ঘটলেও সমস্যা নেই। তবে একটি সরকারের কিন্তু এখানে শেষ কথা নয়। একটি সরকারের মূল কাজ হচ্ছে, একনম্বরে বৈষম্য দূর করা । যদিও কাজটা খুবই কঠিন। সঠিকভাবে ভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারি কর্মকর্তারা যেন কোনভাবেই জনগণের কাজ থেকে ঘুষ নিতে না পারে, সেরকম কিছু করা। পণ্যের মূল্য যেন সিন্ডিকেট করে বাড়াতে না পারে। সেদিকে নজর রাখা। বিশ্ব বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে যেটা বাড়বে সেটা ভিন্ন কথা।
অন্যদিকে দলীয় পরিচয়ে থানা বা আদালতে দালালি করে, নিরপরাধ জনগণের যেন কোন ক্ষতি কেউ করতে বা করাতে না পারে। এরকম বিষয় গুলো নজরধারী করা খুবই জরুরি। আবার অন্যদিকে সরকারের ঘর কিন্তু ঠিক রাখতে হবে। যেমন, কমিটি বাণিজ্য করা বন্ধ করতে হবে। কমিটি বাণিজ্য সরকার দলেই বেশি হয়ে থাকে। তখন ত্যাগীরা বাদ পরে যায়। এরকম বিষয় গুলো খুব সাবধানে করতে হয় সরকারকে। ত্যাগীরা যেন হারিয়ে না যায় হাইব্রীডদের কারণে।
বিরোধী দলীয় আন্দোলন ঠেকাতে হুমকি প্রদর্শন করা সরকারের জন্য চরম বোকামি বটে । তার কারণ হলো, সরকার যদি জনগণের কল্যাণে সঠিক কাজটি করতে পারে। তৃণমূল জনগণ যদি মনে করে সরকারের কাজগুলো ভালো এবং সন্তোষজনক । তখন কিন্তু বিরোধী দল তাদের আন্দোলনে সেই তৃণমূল জনগণ আর খোঁজে ও পায় না। যার ফলে দিনদিন বিরোধী দল এমনিতেই দুর্বল হতে থাকে। তখন বিরোধী দল বলে,
ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি। বা চাচা আপন জান বাঁচা।
কিন্তু আমরা বিগত সরকার গুলোকে কি দেখেছি। সবসময় বিরোধী দল মোকাবেলা করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে গেছে । কিন্তু তারা তৃণমূল জনগণের জন্য কিছুই করেনি। তাই তাদের পরাজয় হয়েছে। যাকে বলে তৃণমূল দর্শক বা জনগণ। আওয়ামী লীগের মতো একটি দল দীর্ঘ পনেরো বছর একটা ক্ষমতায় থেকেও সেই যে তৃণমূলের দর্শক প্রায় ৬০% জনগণ আসলে তাদের জন্য আওয়ামী লীগ তেমন কিছুই করেনি। লোক দেখানো কাজ কিন্তু জনগণ বুঝে। পদ্মা সেতু মেট্রোরেলসহ অসংখ্য উন্নয়নের নজির আছে আওয়ামী লীগের। তারপরও তৃণমূল জনগণ কিন্তু চুপচাপ আছে। তার অসংখ্য কারণ ও আছে। আশাকরি বতর্মান সরকার লোক দেখানো কাজ থেকে বিরত থাকুক। দেশের উন্নয়ন জনগণের উন্নয়ন দুইটাই একসঙ্গে হোক। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা, গ্রন্থলেখক।
মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।