স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন বটেশ্বরের রণকেলী হাউজিং এলাকায় সুমন আহমদ (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত সুমন আহমদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াবহর, বটেশ্বরস্থ রণকেলী হাউজিংয়ের ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে শাহপরাণ (রহ.) থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন সুমনের মা মোছাঃ নেওয়া বেগম।
অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—ইমরান আহমদ ওরফে টেরা, তরিকুল ইসলাম, হারুন আহমদ, সাহেদ আহমেদ, সৌরভ আহমদ ও মানিক মিয়া।
লিখিত অভিযোগে নেওয়া বেগম দাবি করেন, একটি প্রাইভেট কার কেনার উদ্দেশ্যে সুমন আহমদ বাড়ি থেকে নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে সিলেট শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। বটেশ্বর বাজার এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার পথরোধ করে তাকে জোরপূর্বক আটক করে প্রথমে (( রণকেলী হাউজিংয়ের ব্রিজের ওপর) নিয়ে যায় ও পরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেখানে সুমনের গলায় চাকু ধরে তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, আইফোন এবং সঙ্গে থাকা নগদ চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় লোহার রড, জিআই পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সুমনকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আরও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সুমনের বন্ধু ইবাদুল্লাহর ব্যাংক হিসাব থেকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এক লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে দাবি করেন বাদী।
অভিযোগে নেওয়া বেগম আরও বলেন, পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে খাদিমপাড়ার ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় সুমন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে সময় লাগায় থানায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।