স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিকত্ব সনদ ও প্রত্যয়নপত্র নিতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও এক নারী সহকারীর সঙ্গে কবির আহমদ নামে এক যুবকের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলীকে হুমকি দেওয়ার এবং রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চেয়ারম্যানকে নিয়ে নানা অভিযোগ ও কল্পকাহিনী প্রচারেরও অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। কবির আহমদ ওই দিন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব সনদপত্র ও একটি প্রত্যয়নপত্র নিতে যান।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দুটি সনদের নির্ধারিত ফি বাবদ ১০০ টাকা পরিশোধের সময় কবির আহমদ ১ হাজার টাকার একটি নোট দেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা তাকে ১০০ টাকা খুচরা বা ভাঙতি দেওয়ার কথা বলেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে।
পরিষদের পাশের কক্ষে থাকা চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী উচ্চস্বরে কথাবার্তা শুনে সংশ্লিষ্ট কক্ষে যান। চেয়ারম্যানের ভাষ্য, তিনি সেখানে গিয়ে কবির আহমদকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। পরে পরিস্থিতির একপর্যায়ে কবির পরিষদের বাইরে চলে যান।
ঘটনার বিষয়ে কবির আহমদ জানান, বৃহস্পতিবার সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দুটি সনদের ১০০ টাকা পরিশোধের জন্য ১ হাজার টাকার নোট দিলে টাকা খুচরা করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে একজন ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কবির আহমদ আরও বলেন, “পরে আমি পরিষদ থেকে বাইরে গিয়ে ১০০ টাকা খুচরা করে এনে সনদ নিয়ে ফেরার পথে পরিষদের গেট থেকে চৌকিদার দিয়ে ডেকে এনে আমাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। আমার মোবাইল ফোনের সব ডাটা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর আমি আমার গ্রামের মুরব্বি, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিষয়টি জানিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, প্রায় দুই মাস আগে চেয়ারম্যানের নামে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
কবির আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াহিয়াসহ এলাকার মুরব্বিদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। উভয় পক্ষকে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বলা হয় এবং বিষয়টি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সারীঘাট ডৌডিক এলাকার কবির নামে এক যুবক সনদ নিতে পরিষদে আসলে তার কাঙ্ক্ষিত সেবাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। ১০০ টাকা খুচরা করার বিষয় নিয়ে সে উল্টো পরিষদের সচিব ও নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সনদ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগের আগে সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আমাদের হুমকি দেয়। এরপরও গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তাকে ডেকে এনে বিষয়টি জানতে চাইলে সে আরও উচ্চস্বরে গালিগালাজ করে পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ সময় আশপাশের স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাকে বুঝিয়ে বললে সে চলে যায়।”
চেয়ারম্যান বলেন, “তাকে আটক বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইউনিয়ন পরিষদ সেবা ও শান্তির জায়গা। সেখানে এসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবির আমার নামে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তার ফেসবুক আইডিতে এসব শেয়ার করা রয়েছে। কবিরের পূর্বের জের ও সনদ নিতে এসে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তা নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং আমার মানহানি হয়েছে, এর দায়ভার তাকে নিতে হবে।
জৈন্তাপুরের বড়গাংয়ে নৌকা আনলোডের সময় পানিতে পড়ে বারকি শ্রমিকের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে নৌকা আনলোড করার সময় পানিতে পড়ে নাজিম উদ্দীন (৩০) নামে এক বারকি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের বড়গাং নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজিম উদ্দীন জৈন্তাপুর উপজেলার ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের তেলিজুরী গ্রামের মৃত মুতলিব আলীর ছেলে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বড়গাং নদীতে বারকি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় শ্রমিকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার দুপুরে বড়গাং নদীতে নৌকা আনলোড করার সময় হঠাৎ পানিতে পড়ে যান নাজিম উদ্দীন। এ সময় সঙ্গে থাকা সহকর্মী ও স্থানীয় শ্রমিকরা দ্রুত তাকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বারকি শ্রমিকদের দাবি, নাজিম উদ্দীন মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবে তার পানিতে পড়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলনের সময় পানিতে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।