আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি। এবার উপজেলার ১৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে মণ্ডপ উন্নয়নের জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে নেওয়া হবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও মোতায়েন করা হবে।
তাড়াইল পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিশুক ভৌমিক জানান, এবার উপজেলায় ১৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রতিমায় রং করার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও জানান, পূজার নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে পুলিশের দল বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন ও তদারকি করছে। পূজার আগমুহূর্ত থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির অধীনে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সব মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কার্যকরী কমিটির সদস্য সাংবাদিক রবীন্দ্র সরকার বলেন, পূজা যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ মণ্ডল বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় আর মণ্ডপের সাজসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।