অথই নূরুল আমিন:
পর্ব এক। আজকের এই চিঠির সেরা প্রশ্নটি হলো। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে, বাংলাদেশ স্বাধীন করতে হলো কেন? বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের লাভ কি কি ছিলো? এমন একটি প্রশ্নের জবাব পাওয়া কিন্তু খুবই কঠিন। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সরকার তখন কেন যুদ্ধ ছাড়াই দিয়ে দিলো না কেন? আরেকটি প্রশ্ন হলো। স্বাধীনতার এতো বছর পরেও কেন আমরা জাতিগত ঐক্য হতে পারলাম না। বতর্মানে আরো খারাপ অবস্থা চলছে। এখানে শত মত শত পথ। এর থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে গোটা জাতির ভবিষ্যত অনিশ্চিত দেখা যাচ্ছে।
আমাদের দেশের আইন আদালত থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এমনকি ভ্রমণ ব্যবস্থা পর্যন্ত নাজেহাল। এরকম একটি ভাবনা জাতির কারো চিন্তা চেতনায় একদম নেই! এরকম চলতে থাকলে দেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না আগামী কয়েক যুগ পরে আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে। তাহলে আমাদের করণীয় কি?
আমার মতে সকল রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে শতভাগ । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করতে হবে। দেশের সকল আদালত বন্ধ করে দিতে হবে। অপরাধী যেই হোক। তাকে সরাসরি মেরে ফেলতে হবে।
চুরি,ছিনতাই,ডাকাতি, প্রতারণা, ভূমিদস্যু, জলদস্যু থেকে শুরু করে যাকে যেখানে অপরাধী মনে হবে বা অপরাধ করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তাকে মেরে ফেলতে হবে।
একজন অপরাধীর পক্ষেও আইনজীবী থাকবে, বছরের পর বছর তার মামলা কোর্টে চলতে থাকবে। এখানে সরকার কোটি কোটি টাকা বেতন দিবে, বিচারপতি ও কোর্ট কর্মচারীর জেলার - পুলিশ আর অন্যদিকে সমাজের নিরীহ লোকেরা চড়া দামে পণ্য কিনতে কিনতে পুষ্টিহীন জীবনযাপন করবে তা কখনও হতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলো যুগে যুগে ভুল রাষ্ট্র পরিচালনার খেসারত দিতে হচ্ছে আজকে সাধারণ জনগণকে। কেন তা হবে কেন?
সংসদ অধিবেশন এমপি মন্ত্রী জনপ্রতিনিধি কোন কিছুর আর এই দেশে প্রয়োজন নেই আগামী পঞ্চাশ বছর। সংসদ অধিবেশন মানে, নির্দিষ্ট দল ক্ষমতায় আসে, তাদের দলীয় এমপি মন্ত্রী নেতাকর্মী সবাইকে তো দেশের জনগণ দেখেছে। খুব ভালো করে চেনা হয়ে গেছে। ওদের ধারায় জাতির কোন কল্যাণ হয়নি স্বাধীনতার এতো বছরেও। তাহলে কেন এই ফালতু সরকার, ফালতু সংসদ, ফালতু আমলা থাকবে।
আমার মতে, যোথ বাহিনীর বিশেষ টিম তিন বছর করে দেশ পরিচালনা করবে। যখন কোনো সরকার থাকবে না। এমপি মন্ত্রী বিরোধী দল আইন আদালত জেল জরিমানা এসব থাকবে না। তখন কিন্তু দশ লাখ কোটি টাকার বাজেট ও এই দেশের জন্য লাগবে না। তখন মাত্র তিন লাখ কোটি টাকার বাজেটেই বছর পার হয়ে যাবে। যার ফলে নব্বই ভাগ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হবে না বছরের পর বছর । দেশের ষাট ভাগ সাধারণ লোক তখন এমনিতেই ভালো থাকবে। সুখে থাকবে, নিরাপদে থাকবে।
একটা সরকার এক বছরের বাজেট করে, প্রায় দশ লাখ কোটি টাকার সমান, সেখানে অর্ধেকের বেশি টাকাই চুরি হতে থাকে প্রতিনিয়ত । শুরু হয় কমিশন বাণিজ্য, শুরু হয় গোপনে ভাগ ভাটোয়ারার মতো জগণ্য কাজ । অন্যদিকে একটি রাজনৈতিক সরকার কোনভাবেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তার প্রধান কারণ তাদের দলীয় লোকেরাই তো সবচেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকে সবসময় । একটি দলীয় সরকারের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে, গ্রামের চকিদার পর্যন্ত তাদের দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। যাকে বলে স্বজনপ্রীতি। যার ফলে দলীয় সরকারের কাছে তৃণমূলের জনগণ আর কোনরকম সুফল পায় না শত চেষ্টা করেও।
বাংলাদেশ থেকে চিরতরে রাজনৈতিক দলগুলোকে মুছে দেয়া জরুরি। রাজনীতির নামে জনগণের সাথে চরম অন্যায় করা হচ্ছে, এটা চরম প্রতারণার সামিল।অন্যায় অপরাধ সবই করছে রাজনৈতিক ব্যানারে সবলেরা। এখানে জড়িত প্রশাসনের লোকেরা। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী আজকে চরমভাবে বিতর্কিত। এটি জাতির জন্য যেমন লজ্জার, তেমনি ক্ষতিকর। আজকে সরকারি লোকেরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে বসে যে হারে ঘুষ বাণিজ্য করছে। তাও লজ্জার। আমরা যদি একটু পিছনে চিন্তা করি। দেখবেন আমাদের দেশের প্রতিটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার পর ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জনগণ শোষণের শিকার হচ্ছে তাদের কাছে।
আমি চাই সুস্থ এবং সুন্দর সমাজ গঠনে দুর্নীতি মুক্ত, মাদক মুক্ত,সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে। মার্শাল ল জারি করা হোক দীর্ঘদিনের জন্য । এবং যৌথ বাহিনী গঠন করা হোক। যেখানে "অপরাধী সেখানেই সমাধি " এরকম শ্লোগান নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলে দেশের সাধারণ জনগণ ভালো থাকবে, দেশ ও এগিয়ে যাবে। ভবিষ্যত প্রজন্মও ভালো থাকবে আগামীতে ।
বতর্মান সরকার অতীতের সরকার তারা সবাই কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে। প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। প্রতি মাসে বেড়ে চলছে পণ্যের মূল্য। দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। গৃহহীন ভূমিহীন ভাসমান জনগণের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এভাবে অগোছালো রাষ্ট্র পরিচালনার ফলে দেশ একদিন সম্পূর্ণ দেউলিয়া হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমার এই খোলা চিঠি দেশের সেনাবাহিনী নৌবাহিনী বিমান বাহিনীসহ সকল দলীয় চীপ এবং দেশের সকল রাজনৈতিক দলীয় প্রধান এবং জনগণের উদ্দেশ্যে লেখা।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।