অথই নূরুল আমিন:
লক্ষ্য করে দেখা গেছে, আমাদের দেশের বিগত সরকার গুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে তারা ব্যর্থতার দিয়েছিল। আজকে বিএনপি ক্ষমতায় আছে। কিন্তু দেশের সাধারণ জনগণ কোনো ভরসাই করতে পারছে না বিএনপি সরকারের উপরে। এই সরকার ও কেমন জানি মন ইচ্ছে মতোই কিছু কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের জনগণকে হতাশ করে দিয়েছে প্রায় অসংখ্য কাজে। সেই পুরাতন ব্যবস্থায়ই যদি আজও বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড থাকে, তাহলে জাতি আরেকবার আরেক ধাপ পিছনে পরে যাবে বলেই গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিএনপি সরকারের বড়ো পদক্ষেপ গুলোর মধ্যেও রয়েছে ছয় লেন আট লেন রাস্তা মেট্রোরেল উড়াল রেল সহ ইত্যাদি প্রকল্প। এছাড়া সচিবালয় সরিয়ে আগারগাঁওয়ে নেয়া, কৃষক ভূর্তকি ফ্যামেলী কার্ড কৃষক কার্ড বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতাসহ ইত্যাদি প্রকল্প।আসলে এরকম প্রকল্প গুলো বিগত সময়ে সাধারণ জনগণের জন্য কোনো কল্যাণই হয়নি যেহেতু। তাহলে বিএনপি সরকার এগুলোই বা প্রথমই করতে যাচ্ছে কেন? তার তেমন উত্তর কিন্তু দেশবাসীর কাছে নেই।
সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, আমাদের দেশের বিগত সরকার গুলো এবং বতর্মান বিএনপি সরকার থেকে শুরু করে সব সরকারের আমলেই দেখেছি তারা সমন্বয়হীনতায় চলে। তারা কেউ জনগণের প্রকৃত দাবী দাওয়া নিয়ে কাজ করে না। সরকারের রাষ্ট্রীয় কোনো গবেষণা টিম নেই। তাই যখন যা মনে চায় সরকারের পক্ষ থেকে তাই করে বসে। এরকম কাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে নষ্ট হয়। এখানে এক দল আছে। সাথে সাথে হ্যা করেই যাচ্ছে।
আমি মনে করি একটি সরকারের এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। যে পদক্ষেপ গুলোর সুবিধাভোগী হবে দেশের সর্বস্তরের জনগণ। কিন্তু না। তা আর হয়ে উঠে না। এর ব্যখ্যাও কিন্তু দেশের অসংখ্য জনগণ জানে না।
বিএনপি সরকার যানজট কমিয়ে আনার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( একনেক ) থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন ও হয়ে গেছে। আমি মনে করি ইহা সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রকল্প।
দেশের বৃহত্তম ছয়টি শহর থেকে নিম্ন জনগণকে গ্রাম মুখী করে তাদেরকে কৃষি খামারে কর্মের ব্যবস্থা করে দিলে দেশের যেমন হবে উন্নয়ন। তেমনি কমে আসবে বেকারত্ব। কমে আসবে আমিষ ও সবজি জাতীয় পণ্যের মূল্য। দেশ হয়ে উঠবে স্বনির্ভর। মানুষের মুখে থাকবে হাসি আর হাসি। বতর্মানে দেশে একদিকে বেড়ে চলছে বেকারত্ব অন্যদিকে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। যাকে বলে জনগণ শোষণ করার মতো অবস্থা।
কথা থাকে যে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সচিবালয় আগারগাঁওয়ে নিলে এখানে জনগণের লাভটা কী হবে? এতে কী সরকারি কর্মকর্তারা ঘুষ নেয়া বন্ধ করবে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি কি বন্ধ হবে? ঘুষ ছাড়া কি কারো প্রমোশন হবে। সচিবেরা কী কমিশন বাণিজ্য ছেড়ে দিবে? পরবর্তী সরকারি নিয়োগে কী ঘুষ ছাড়া চাকরি হবে? না। এসব কিন্তু সবই ঠিক থাকবে। অহেতুক রাষ্ট্রের টাকা নষ্ট করে বিদেশী ঋণ করে করে শুধু শুধু জাতির উপরে ভ্যাট ট্যাক্স বাড়ানো ছাড়া আর কোন লাভ এখানে দেখছি না।
এই ধরনের বোকামী কাজ না করে, ইচ্ছে করলে বিএনপি সরকার দেশের যুবকদের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে পারে। একটি বিগ বাজেট পাশ করে দেশের বেকার ছেলে মেয়েদের জন্য আত্ম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করতে পারে। দেশের স্বাস্থ্য সেবা কসাই খানা এরকম বদনাম গোছাতে পারে।
কিন্তু কোথায় যেন দেশের সরকার গুলো গোলকধাঁধায় আটকে আছে। বিএনপি সরকারের বিগত কয়েক মিসে দেশের প্রায় সকল প্রকার পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াতে পরিবহন ভাড়া ঘর ভাড়া বেড়ে যাওয়াতে প্রতিটা পরিবারে পাঁচ হাজার টাকা থেকে বিশ হাজার টাকি পর্যন্ত মাসিক খরচ বেড়ে গেছে প্রতিটা পরিবারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পরেছে । যারা ভাড়া বাসায় থাকে। তাদের বেলায় জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পরেছে। মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো যেন কঠিন বিপদে আছে।
এরকম একটি দেশের রাষ্ট্র প্রধানেরা অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী, এমপি, সরকারি কর্মকর্তারা, তারা সবাই মিলে দেশের নিম্ন আয়ের জনগণের জন্য, দেশের বেকার জনগণের জন্য, একবারও চিন্তা করে না। এই দেশের বৃহৎ একটি অংশ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে। তাদের পুষ্টি দরকার। তাদের সন্তানের শিক্ষা দরকার ভালো চিকিৎসা দরকার। না। এরকম চিন্তা ভাবনা কারো মধ্যেই তেমন দেখতে পাই না। আমি আশাকরি বিএনপি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ভালো কিছু করবে। দেশে বিদেশে তাদের প্রশংসা আসবে। বিএনপি সরকারের সফলতা কামনা করে আজকের লেখাটি এখানেই শেষ করলাম। আল্লাহ্ হাফেজ।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা, গ্রন্থলেখক।
মোহাম্মদপুর, ঢাকা বাংলাদেশ।