অথই নূরুল আমিন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সভা - সমাবেশ বা অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। সরকারের নিজস্ব গতিতে যা করার তাই করা হচ্ছে। সরকারের কর্মসূচি কিন্তু থেমে নেই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীগণেরা ও তাদের নিজ নিজ এলাকায় সাধ্যমতো কিছু না কিছু করেই যাচ্ছেন । যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জনস্বার্থের তেমন কোন কাজ করা হচ্ছে না। তা কিন্তু সত্যি কথা। এর মধ্যে জুলাই যোদ্ধাদের জন্যও খুবই সীমিত আকারে চলছে কাজের গতি।
কিন্তু বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সমাজে রয়েছে প্রশ্ন। তার প্রধান কারণ নির্ণয় করা হচ্ছে। বিরোধী দল মানেই আজকের বিরোধী দল, আগামী দিনের ক্ষমতাসীন দলও তো হতে পারেন তারা। এছাড়া সচেতন নাগরিক মহল মনে করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রবীণ একটি রাজনৈতিক দল। তাদের রয়েছে দেশ নিয়ে সমাজ নিয়ে বিশ্বায়ন নিয়ে বিস্তর অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা কেন তারা আজকে প্রয়োগ করছেন না? অন্যদিকে এনসিপির প্রায় সবাই, তারা জুলাই যোদ্ধা। তাদের রয়েছে গোটা জাতি নিয়ে অনেক দায়বদ্ধতা। সেখানে কিন্তু জামায়াত এনসিপি জোরালোভাবে কিছু করছেন এমনটি চোখে পরছে না।
বিএনপি দেশের রাজনীতি অঙ্গনে বড়ো পরিসরের একটি দল। ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেই দলের নেতাকর্মীদের নিয়েও তাদের কাজ করতে হচ্ছে বিস্তর। এছাড়া সমগ্র দেশের আপামর জনগণ তো আছেই। অন্যদিকে দেশের রাষ্ট্রীয় খাতে রয়েছে, বিশাল ঋণের বড়ো একটা বুঝা। সব মিলিয়ে বিএনপি খুব ভালো পর্যায়ে যে নেই তা কিন্তু তাদের তাদের কাজে কর্মেই বুঝা যায়। বিএনপি ক্ষমতায় এসে কৃষক ঋণ মওকুফ করেছে কিছু। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। যার ফলে আরেকটু কোনঠাসা হয়ে পরেছে সরকারের অর্থনীতি ও ।
এখানে বিরোধী দলের ভূমিকা যত সক্রিয় থাকবে। জনগণের মাঝে বিরোধী দলের ততই গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকবে। এরই মধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক দফা দাবী নিয়ে লং মার্চ করা হয়েছে। সামনে এমন কর্মসূচি আরো আছে হয়তো সেটাও প্রশংসনীয়। তবে বিরোধী দলের কিন্তু লং মার্চ বা সরকার বিরোধী শুধু দুই চারটি কথা মিডিয়ায় বলাই শেষ নয়।
লক্ষ্য করে দেখা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত জাতির বৃহৎ স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। যেমন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে, কর্মসংস্থান নিয়ে এবং পূনর্বাসন নিয়ে। আর পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনার ব্যাপারে তো সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন বলাই চলে। এরকম বিষয় গুলোর মধ্যে কয়েক দফা দাবী এরই মধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যদিও উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বিষয় গুলো তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে কোন্ কাজ করবে, কোন্ কাজ করবে না। এটা আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত। বিরোধী দলের দু একটা দাবী মেনে নিয়ে,কাজ করলে করতেও পারে। আবার না করলেও বিরোধী দলের কিছু করার নেই । তাও সত্যি কথা। তারপরও বিরোধী দলকে জনগণের কাছে একটা বিষয় পরিস্কার করা উত্তম। তা হলো জনগণের স্বার্থের দাবীগুলো নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করা, পোষ্টার করা আর লং মার্চ কর্মসূচি তো আছেই। বিরোধী দলের নেতারা যেন ঘুমের ঘরে আচ্ছন্ন না থেকে জনগণের পক্ষের দাবী গুলো নিয়ে সংসদ অধিবেশনসহ সবখানে সরব থাকাই হবে উত্তম কাজ। তবে একটা এখানে না বললেই নয়। বিগত সময়ের বিরোধী দলগুলো শুধু সরকারের বিরোধীতাই করে গেছে দেখেছি। আমি বলতে চাই। বিরোধী দল শুধু বিরোধীতা করবে কেন? মাঝে মাঝে সরকারের সহযোগী হয়ে কিছু কিছু কাজের দায়িত্ব নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল মিলেও কিন্তু করা সম্ভব। জনগণ ও উপকৃত হলো অন্যদিকে বিরোধী দলের কদরও কিন্তু সরকার এবং জনগণের কাছে বেড়ে যাবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
অথই নূরুল আমিন