অথই নূরুল আমিন:
প্রিয় ছোট্ট বন্ধুরা, আশাকরি তোমরা সবাই ভালো আছো, আজকে তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি " ভূতের দেশের গল্প, ( পর্ব এক ) রূপকথার গল্প। তবে রূপকথার গল্প হলেও। তার মধ্যে যেমন রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, তেমনি রয়েছে শিক্ষামুলক যথেষ্ট বিষয়। আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করছি সেই কাঙ্ক্ষিত রূপকথার আজকের গল্প লেখা।
এই গল্পটি যদিও হাজার হাজার বছর পূর্বের একটি গল্প। তারপরও মানব সমাজের সাথে কিন্তু এই গল্পটির যথেষ্ট মিল খোঁজে পাওয়া যাবে । কারণ ভূতেরাও একসময় এই পৃথিবীতে আজকের মানব সমাজের মতোই বসবাস করতো। তখনও তাদের আলাদা আলাদা রাজ্য ছিলো, আলাদা আলাদা ভাষা ছিলো। আলাদা আলাদা মহারাজ্য ছিলো। তখনকার সময় ও তাদের রাজা ছিলো। হাট বাজার ছিলো। ব্যবসা বাণিজ্য ছিলো। স্কুল- কলেজ হাসপাতাল ছিলো। মাষ্টার, ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার ছিলো। ভূতের দেশেও তখনকার সময়ে ধনী গরিব এরকম বৈষম্য ছিলো।
আজকে যে গল্পটি বলছি। তা হলো ভূতরাং রাজ্যের একটি গল্প। এই ভূতরাং রাজ্যটি একসময় আরো কয়েকটি রাজ্যর সাথে সংযোগ ছিলো। যার ফলে ছোট একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত ছিলো ভূতরাং রাজ্যটি। এই ভূতরাং রাজ্যের ভূতেরা খুবই পছন্দ করতো,মাছ,মাংস ডিম,ডাইল,সবজি ও রান্না করা অনেক খাবার সাথে ভাত তো আছেই । এই ভূতরাং রাজ্যের সব ভূতেরাই ধর্ম পালন করতো প্রায় সবাই। যার যার ধর্ম। ভূতরাং রাজ্যের প্রধান ধর্মের নাম ছিলো " মিনার " এছাড়াও সংবল ধর্ম, নিক ধর্ম, সাইফ ধর্মীয় অনুসারীরাও ছিলো। তবে তারা সংখ্যায় ছিলো তুলনামূলক কম।
মিনার ধর্মের ভূতেরা সংখ্যায় বেশি ছিলো। সত্যি কথা বলতে গেলে। তাদের মধ্যে একতার খুবই অভাব ছিলো। এই "মিনার "ধর্মের মধ্যে বেশ কয়েকটি শাখাও ছিলো। "ওনীন "শাখা মানে সাধক ধরনের একটা গুষ্ঠি তা পালন করতো। আরেকটি শাখা ছিলো "ইনন," তাদের বেশ ভূষা ছিলো লম্বা চুল,লম্বা দাড়ি,লম্বা গুঁফ ইত্যাদি ইত্যাদি। আরেকটি শাখা ছিলো" গাষ" মানে ওরা গান বাজনা ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিন্নি খিচুরি পাকের আয়োজন করতো।
এখানে মিনার ধর্মের ভূতেরা তারা নিজেরাই নিজেদের মাঝে তর্কে- বিতর্কে সবসময় জড়িত থাকতো। কেউ বলতো তোমাদের আদ্দা ভালো নয়। অন্য দল বলতো তোমাদের আদ্দা ভালো নয়। এমনভাবে ওনীন, ইনন, গাষ, জার পন্থীরা সবসময় লেগে বিতর্কে লিপ্ত থাকতো। মিনার ধর্মের প্রধান ধর্মীয় গুরু ছিলো, দিগা ভূত। এই দিগা ভূত নিয়ে আবার সবার শ্রদ্ধা ভক্তি ছিলো প্রায় সমানে সমান ।
ভূতরাং রাজ্যটি ছিলো তৎকালীন সময়ে ভালো একটি রাজ্য, এখানে যেমন ছিলো সুশিক্ষিত কিছু ভূত তেমনি ছিলো সাধক তেমনি ছিলো কৃষক ব্যবসায়ীসহ সকল কাজে ভরপুর ভূত ছিলো । কিন্তু ভালো থাকলে কী হবে? রাজ্যটি মূলত পরাধীন ছিলো । জংজং রাজ্যসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মিলে তখন একজোট। একদিন বেশ কয়েকটি রাজ্য বিভিন্ন আন্দোলনের মুখে পৃথক হয়ে গেলেও ভূতরাং রাজ্যটি এখনো জংজং রাজ্যের অধীনেই রয়ে গেছে।
এভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ চলে যায়। অন্যদিকে জংজং রাজ্যের ভূতের রাজার নাম থাইসিং ভূত। যদিও তারা মিনার ধর্মেরই ভূত। তবু ভূতরাং রাজ্যের ভূতদেরকে চরম অবহেলা করতো। ওরা মাছ খায় বলে। এক ভূত অন্য ভূতের সম্পদ চুরি করতো বলে। এরকম অসংখ্য দোষ থাকার ফলে মিনার ধর্মীয় লোকজনের প্রতি চরম কড়া বার্তা দিতে থাকে জংজং রাজ্যের রাজা থাইসিং ভূত ও তার রাজ্যের সরকার।
এদিকে ভূতরাং রাজ্যের ভূতেরা মূলত রাজ্য সরকারের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। তবে এখানে বেশিরভাগ বঞ্চিত হইতো গরিব ভূতেরাই বেশি। তার কারণ জংজং রাজ্য সরকার প্রতি বছরেই পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিত। ভ্যাট ট্যাক্স বাড়িয়ে দিতো। কিন্তু ভূতরাং রাজ্যের ধনী লোকেরা এবং ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগে আরো ধনী হতে লাগলো। আর সেই সুবাদে ভূতরাং রাজ্যের ধনী জনগণেরা জংজং রাজ্যের রাজা থাইসিং এর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতো না। উল্টা আরো পক্ষ নিয়ে কথা বলতো।
তবে কথা থাকে যে, ভূতরাং রাজ্যের মধ্যে গরিব ভূতের সংখ্যা বেশি ছিলো । তুলনা করলে তখনকার সময়ে প্রায় আশিভাগেরও বেশি ভূতেরাই গরিব ছিলো । এই আশিভাগ ভূতেরাই একদিন থাইসিং ভূতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে শুরু করল। তাদের সাথে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এলো দোলন ভূত, শাল ভূত, কন্দে ভূত, তারও কয়েক বছর পর নেতৃত্বে এলো, মারকু ভূত, অলং ভূত, কখনও তারা ভূত রাজ্যের মনগড়া সংবিধান নিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে। কখনও ভূমি বন্টন আইন পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন করেছে। এরকম অসংখ্য বিষয় নিয়ে। ছোট্ট বন্ধুরা ভূত বলে কথা। তাদের মধ্যে নিয়ম শৃংখলা ভঙ্গ হবে এটাই স্বাভাবিক। ঠিক কি না?
কিন্তু একটা সময়ে লঙ্গ ভূতের নেতৃত্বে, ভূতরাং রাজ্য থেকে এক দফার দাবী দেয়া হলো। এরকম দাবীর কথা শুনে অহংকারী ভূতের রাজা, থাইসিং ভূত, জংজং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলো । যুদ্ধে মূলত বেশি ভূত মারা যায়, ভূতরাং অঙ্গ রাজ্যের। এভাবেই অসংখ্য নীরিহ ভূতের জীবনের বিনিময়ে, সত্যি সত্যি ভূতরাং রাজ্য একদিন স্বাধীন হয়ে যায়। ভূতের রাজ্য ভূতরাং। জাতির সাথে রাজ্যর নামের মিল থাকায়। খুব সহজেই নামটি সারা দুনিয়া জুড়ে পরিচিত পেয়ে যায়। দৃশ্য কাট।
(ভূতের রাজ্য সুরক্ষি, বই থেকে সংগৃহিত )