বানারীপাড়া প্রতিনিধ:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেম্বর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক, সাবেক ও বর্তমান পদধারী নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাদের মেম্বর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই বিগত রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন পদ-পদবি ধারণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ১ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থক মো. মাহাবুব উল্লাহ এবং ২ নং ওয়ার্ডে ১৭ বছর আগে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকলেও পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া আব্দুস সালামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ৪ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থক বাবুল আকতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ছেলে ১ নং বিশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। এছাড়া ৫ নং ওয়ার্ডে স্থানীয় ‘শান্ত চেয়ারম্যান’-এর মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী আসাম জাহান বিলকিসকে মেম্বর করা হয়েছে, যার ছেলেও প্রস্তাবিত ১ নং বিশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। ৭নং ওয়ার্ডে বিসারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং ৯ নং ওয়ার্ডে চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতা ও ‘শান্ত চেয়ারম্যান’-এর মামাতো ভাই মাসুদ জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার ছেলেও প্রস্তাবিত ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে এমন বিতর্কিত ও রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত ব্যক্তিদের মেম্বর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগের ফলে সাধারণ জনগণ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক অসন্তোষ দানা বাঁধতে পারে। অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীরা।