বিশেষ প্রতিনিধি:
কণ্ঠশিল্পী মাহমুদা আক্তার মুক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও ব্ল্যাকমেইল করে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপক, লেখক ও 'গরীবের মঞ্চ' এবং 'আব্বাস উদ্দীন একাডেমী'র সভাপতি সাকিব সুলেরীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তথ্য প্রমাণে বেরিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি মুক্তি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ও সংস্থায় অটোরিকশা কেনার ভুয়া মেমো জমা দিয়ে সেগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিল। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সরেজমিনে মুগদা স্টেডিয়ামে অবস্থিত 'বিএস এন্টারপ্রাইজ'-এ গিয়ে সত্যতা যাচাই করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর উপস্থিতিতে পুরনো ক্যাশমেমো বই ও রেজিস্ট্রার পরীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলে।
ক্যাশমেমো যাচাই করে দেখা যায়, বিএস এন্টারপ্রাইজ থেকে ক্রয় করা প্রায় ৭-৮টি গাড়ির আসল মেমোতে ক্রেতার নাম লেখা ছিল "সাকিব, সাংবাদিক, শান্তিনগর"। অথচ মাহমুদা আক্তার মুক্তি মূল ক্রেতার নাম 'সাকিব' কেটে নিজের নাম 'মুক্তি' এবং ঠিকানা বদলে 'মালিবাগ' বসিয়ে জাল রশিদের কপি তৈরি করেছে। শুধু বিএস এন্টারপ্রাইজই নয়, আরও একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের রশিদেও একই উপায়ে জালিয়াতি করে বিভিন্ন জায়গায় অটোরিকশাগুলোর কাস্টডি ও মালিকানা দাবি করছিল সে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, অটোরিকশার মতো বহুমূল্যের সম্পদ কেনার অর্থনৈতিক সামর্থ্য মুক্তির নেই। বর্তমানে মাসে মাত্র ১০ হাজার টাকা বেতনে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত এই গায়িকার কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স কিংবা আয়ের বৈধ উৎস নেই। অনুসন্ধানে ইসলামী ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্টো সাকিব সুলেরী পরিচালিত ‘উত্তর টেলিফিল্ম’ থেকে চিকিৎসা খরচ, বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন কেনাকাটার কথা বলে নেওয়া প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা ঋণ এখনও পরিশোধ করেনি মুক্তি।
সাকিব সুলেরীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তি এই ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে জানা গেছে। এই জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজধানী পল্টন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একজন উদীয়মান কণ্ঠশিল্পীর এমন বেইমানি ও একের পর এক জালিয়াতির ঘটনায় সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।