
এক্সেলসিয়র রিসোর্টের ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর প্রতিবাদ, তথ্য-প্রমাণ ছাড়া প্রচারণা বন্ধের দাবি; ইউনিয়নবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা
সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেট সদর উপজেলার ৪ নম্বর খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদকে এক্সেলসিয়র রিসোর্টের একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের প্রচারণার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা বন্ধ না হলে ইউনিয়নবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সুরমা গেট বাইপাস পয়েন্টে ‘ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, স্থানীয় মুরব্বি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদকে এক্সেলসিয়র রিসোর্টের একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বক্তাদের দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। আইনগতভাবে অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত না করে একজন জনপ্রতিনিধিকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানিই করে না, বরং এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
তাঁরা আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য প্রচার করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হবে। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো স্বার্থে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হলে তা এলাকার সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের; অপপ্রচার করে কাউকে বিতর্কিত করার অধিকার কারও নেই।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংশ্লিষ্ট মহলকে অবিলম্বে এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো বক্তব্য বা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার দাবি জানান তাঁরা।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতেও তাঁরা পিছপা হবেন না। চেয়ারম্যানের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় ইউনিয়নবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন বক্তারা।
বিশিষ্ট মুরব্বি আব্দুর রহিম বাবুলের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রনেতা রূপিয়ান আহমদ সবুজের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য ও সংহতি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ইউপি সদস্য আতাউর রহমান বাবুল, সিরাজ উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান ফয়জু, সাইদুর রহমান সাইদ, কামাল আহমদ, সমাজসেবী মো. হানিফ, লোকমান আহমেদ, ব্যবসায়ী শাহ জাকের, আলী আকবর, সমাজসেবক আবু সাইদ, মকবুল আলী ও এনামুল হক কুটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল মিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলামিন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জুবের আহমদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তাজুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহান আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মচ্ছব্বির এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদ মিয়া।
এ ছাড়া সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিনা আক্তার, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহানা বেগম এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাজিয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় মুরব্বি লোকমান আলী, পারভেজ আহমদ, মুছাব্বির আলীসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন শেষে বক্তারা আবারও বলেন, কোনো ঘটনার সঙ্গে কাউকে জড়ানোর আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। অপপ্রচার বন্ধ না হলে খাদিমপাড়ার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ ও পরবর্তী কর্মসূচি পালন করা হবে।