
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক গৃহবধূর সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের কথা অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
আটককৃত শিক্ষকের নাম হাবিবুল্লাহ (২৬)। তিনি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম রূপালী খাতুন (ছদ্মনাম)। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া নলবিলপাড়া গ্রামে। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রবাসী রূপালী খাতুনের সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে পরবর্তীতে তা প্রেমে রূপ নেয়। সম্পর্কের এই দীর্ঘ সময়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয় এবং তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও স্থাপিত হয় বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে শিক্ষক হাবিবুল্লাহ ওই গৃহবধূকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেলে ডেকে পাঠান। সেখানে পৌঁছানোর পর রূপালী খাতুন তাকে বিয়ের করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু শিক্ষক হাবিবুল্লাহ পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন এবং রূপালীকে বিয়ে করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
হোটেলের ভেতরে দুজনের এমন উচ্চবাচ্য ও সন্দেহজনক কথাবার্তা ও চালচলন আশেপাশের লোকজনের নজরে আসে। উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা তাদের ঘিরে ধরেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তাদের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের আটকে রাখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাদরাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহ ও ওই গৃহবধূকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।