ছাতক প্রতিনিধিঃ
ঘিলাছড়া গ্রামের কিছু লোক কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘হাঁদা পাণ্ডব’ গ্রামের মানুষদের নিয়ে (পোরো গ্রাম) উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং এর বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় ইসলামবাজারে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি মতছির আলী, সুনাফর আলী, সাবেক মেম্বার আঃ মছব্বির, ডা. ইউনুছ আলী, আং সুবহান প্রমুখ। 
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ঘিলাছড়া এলাকার কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাঁদা পাণ্ডব দুুই গ্রাম নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা নরসিংপুর এলাকার মুরুব্বীদের কাছে এর সঠিক বিচারপ্রার্থী। তারা কেন সমগ্র হাঁদা পাণ্ডব এলাকার মানুষদের জড়িয়ে এমন অপমানজনক মন্তব্য করবেন? আমাদের এলাকার যুবকরা ভুল করতেই পারে, কারণ মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে ভুলের বিচার ১৬ আনা হবে। ভুল তো আর পুরো এলাকার সবাই করেনি, করেছে মাত্র ৫-৭ জন। এর জন্য পুরো এলাকার মানুষকে হেয় করে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে হাঁদা পাণ্ডবের খেলোয়াড়রা ফুটবল খেলতে গেলে ঘিলাছড়া গ্রামের কমিটির লোকজনের সাথে একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। সেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকদের ওপর অতর্কিত হামলায় হাঁদা পাণ্ডবের অন্তত ১৪-১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরবর্তীতে উভয় এলাকার মুরুব্বীয়ানদের সমন্বয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে আপস-মীমাংসা করা হয়েছিল।
পূর্বের এই বিরোধের জের ধরে গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাঁদা পাণ্ডবের কয়েকজন কিশোর মিলে ঘিলাছড়া গ্রামের একজনের ওপর আক্রমণ করে তাকে আহত করে। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে জড়িতদের হাঁদা পাণ্ডবের লোকজন কোনো প্রশ্রয় দেননি, বরং তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় মুরুব্বীদের পক্ষ থেকে বিচার বা মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ঘিলাছড়ার একটি পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে বিচার মানছে না বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। উল্টো তাদের এলাকার লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য চালিয়ে গেলেও তাদের মুরুব্বীরা এর কোনো প্রতিবাদ বা বিচার করছেন না বলে সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে স্থানীয় মুরুব্বীদের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়।