সিলেট নিউজ ডেস্ক :
মাটি ও মানুষের সুবাস ছড়ানো নেত্রকোনার মদন উপজেলা যেন গুণীজন জন্ম দেওয়ার এক উর্বর ভূমি।
এই জনপদের আকাশ-বাতাসকে মুখরিত করে যারা প্রতিনিয়ত মেধা, মনন ও কর্মের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন, আজ হৃদয়ের গভীর ভালোলাগা থেকে তেমনই দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি। তাঁরা আমাদের অহংকার, আমাদের প্রেরণার উৎস।
আমরা ছবিতে দেখতে পাচ্ছি মদনের দুই বিখ্যাত মানুষ, কবি ও গবেষক মহলে যাঁদের নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়, বাঁ-দিকে সেই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব—বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত চারণ কবি ও ইতিহাস গবেষক মুছলেছ উদ্দিন।
কলমের জাদুতে যিনি ইতিহাসকে করেন জীবন্ত। কবি ফররুখ আহমেদ পুরস্কার এবং ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই গুণী মানুষটি।
এ পর্যন্ত তাঁর ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং আরও ২০টি গ্রন্থের পান্ডুলিপি প্রস্তুত রয়েছে পাঠকের মন জয় করার জন্য। আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, ‘চেনা সুর প্রকাশনী’ থেকে ইতিপূর্বে তাঁর একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে এবং বর্তমানে আমাদের প্রকাশনা থেকেই তাঁর টানা চতুর্থ বই "ইতিহাস কথা বলে" শিরোনামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের কাজ চলছে। তাঁর এই মনীষার ছোঁয়া আমাদের প্রকাশনাকে ধন্য করেছে।
আর ডানপাশের যাঁর দীপ্ত মুখাবয়ব দেখতে পাচ্ছেন, তিনি তরুণ প্রজন্মের আইকন, সফল খামারি ও প্রশিক্ষক—জনাব ইয়াসিন মিয়া।
কুঠিরিকোণা, মদন, নেত্রকোনা থেকে শুরু করে যাঁর সাফল্যের সুবাস আজ ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই উদ্যোক্তা ইতিমধ্যেই সরকারি প্রটোকল ও খরচে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের লাল-সবুজের পতাকা উজ্জ্বল করেছেন এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।
তাঁর গড়া খামারে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাঁস পালনের ওপর তাঁর রচিত ৭টি গ্রন্থ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর দিকনির্দেশনা নিয়ে বহু মানুষ আজ সাবলম্বী।
‘চেনা সুর প্রকাশনী’র পরিবারে যুক্ত হতে যাচ্ছে তাঁর অষ্টম গ্রন্থ "কেন হাঁসের খামার করবেন?"—বর্তমানে যার পান্ডুলিপি সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ অত্যন্ত জোরেশোরে এগিয়ে চলছে।
মদনের মতো একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই জোড়া আলোকবর্তিকার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, উপকৃত হোক পুরো মানবজাতি। অত্যন্ত অমায়িক ও সুন্দর মনের অধিকারী এই দুই মহৎপ্রাণের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
চেনা সুর প্রকাশনীর পথচলায় এই গুণীজনদের নিবিড় সান্নিধ্য আমাদের আগামীর পথকে আরও সুদূরপ্রসারী করবে—এই আমাদের ঐকান্তিক প্রত্যাশা।
এন আই বিপুল
প্রকাশক, চেনা সুর প্রকাশনী।