অথই নূরুল আমিন:
সেই কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে অবশেষে দেশের বিশাল এক বেকার শ্রেণি জুলাই যুদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আর সেই সুবাদে নতুন করে কপাল খোলে যায়। বেশকিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের। তাতে গত দেড় বছরে প্রায় পঞ্চাশ লাখেরও বেশি রাজনৈতিক নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এদিকে বেশকিছু জুলাই যুদ্ধারাও বিভিন্ন কৌশলে বেশ মোটা অংকের টাকার মালিক হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। যার হিসাব সুদে আসলে একদিন দিতে হতে পারে।
দেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই মর্মে খোলা চিঠি লিখছি যে, আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষের একজন লেখক ও সমর্থনকারী। সমগ্র বাংলাদেশের কয়েক লক্ষ ছাত্র ছাত্রী কোটা সংস্কারের জন্য একজোট হয়ে আন্দোলন করেছে। এখানে ঐ সময় এই আন্দোলনের মুল ইস্যু ছিল সরকারি চাকরি।
সেই সুবাদে নাহিদ, আসিফ, সার্জিস, শামান্তা, জারা, পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগ অনেকেই এই আন্দোলনে যোগ দেয়। তার পরিমাণ কয়েক লাখের ও বেশি।
লক্ষ্য করে দেখা যায়, তুমুল আন্দোলনের জেরে একটি সরকারের পতন হলো। যেমন ৫ আগস্ট ২০২৪। তড়িঘড়ি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলো ৮ আগস্ট ২০২৪। উল্লেখিত সরকারে আন্দোলনরত তিনজন ছাত্র উপদেষ্টা হলো বিভিন্ন দপ্তরের। আর বাকীদের মধ্যে কেউ বাম পন্থী। কেউ ডান পন্থী কেউ ছাত্রদল কেউ শিবির। সেই রকম পরিচয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক পায়দা লুঠে নেয়ার কৌশল নিতে থাকল অনেকেই।
আরো লক্ষ্য করে দেখা গেলো আন্দোলন সফল হওয়ার পর থেকেই আন্দোলনকারীরা আর কেউ তারা চাকরি চাচ্ছে না। এ যেন এক অবাক করার মত ঘটনা। এখানে কেউ কেউ নীরবে সরে গেছে । আবার অনেকেই নাকি তদবির বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে। আর যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আছে বা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সাথে আছে। তাদের ভাব দেখে আজকে মনে হয়। সরকারি চাকরি কি জিনিস। এটা ওরা কখনও যেন নামই শুনেনি।
যাক এসব কথা। তারপরও শেষ কথা থেকেই যায়। উপরে উল্লেখিত সবার অবস্থা মোটামুটি ভালোই বলা যায়। কিন্তু সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের কথা বলছি। যারা আন্দোলনে এসেছিল। ভেবেছিল। কোটা বাতিল হলে বা শীতিল হলে। সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন তারা দেখতে পারবে। আমি আজকে তাদের কথা বলজি। চাকরির ব্যাপারে। তবে অন্য কথা হচ্ছে। গোটা জুলাই যুদ্ধাদেরকে আপনি কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? কোথায় রেখে যাচ্ছেন?
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনে যেকোন একটি দল ক্ষমতায় আসবে। আরেকটি দল বিরোধী থাকবে। সে হিসাবে তাদের সাথে যেসকল ছাত্র ছাত্রীরা জড়িত আছে তারা না হয়। বিভিন্নভাবে সুযোগ সুবিধা পাবে। কিন্তু সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা কোথায় যাবে সেদিন। কার কাছে যাবে। কারা হবে সেদিন তাদের অভিভাবক?
তাই বলছি। প্রধান উপদেষ্টা সাহেব। আপনার সব কাজ বাদ দিয়ে সবার আগে উচিৎ ছিল। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্বই ভাগ ছাত্র ছাত্রীদেরকে সরকারি বেসরকারি চাকরি দেয়া।
অথচ তা না করে সব করেছেন। বিতর্কিত কাজ। দেশের মানুষেরা আজকে আপনাকে কেউ বিশ্বাস করছে না। অনেকেই বলছে আপনি ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রধান। আমি ও বলি। তার কারণ হলো। ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফসল ভোগ করছেন আপনি এবং আপনার সাঙ্গরা। কিন্তু ছাত্রদের জন্য কিছু করে গেলেন না। শুনছি জুলাই যুদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তির আইন হচ্ছে। দায়মুক্তির আইন করা বড় কথা নয়। সবার আগে দরকার ছিল। জুলাই যুদ্ধাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। গত দেড় বছরে দেখলাম। একটি রাজনৈতিক দল যেরকম বোকার মত রাষ্ট্র চালায়। আপনার সরকারও সেই রকম রাষ্ট্র চালিয়েছে। যাকে বলে যেই লাউ, সেই কদু।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক