শিরোনাম
​তিতাসে অসহায় বৃদ্ধা মজিদা খাতুনকে মারধর করে ঘরছাড়া করলেন আপন ছেলে-বউ! তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় আটক হন কামাল চেয়ারম্যান এমপি মিলনের সফরসঙ্গী হয়ে দেশে ফিরলেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল বাসির সিলেটে ঝোপের মধ্যে পড়ে ছিল বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, উদ্ধার করল এসআরবি-৯ রংপুরে আ.লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চিকনাগুলে মসদ্দর আলীর পক্ষে যুবসমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা, বিএনপির মনোনয়ন দাবি মাকসুদা বেগম হত্যার বিচারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রশিক্ষণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক হলেন এইচ আর রুবেল সিলেটের জৈন্তাপুরকে পৌরসভা ঘোষণা, উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

গডফাদার হাবলু ও হাসান শওকত সিন্ডিকেটে ধ্বংসের প্রান্তে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

সিলেট নিউজ ডেস্ক / ১২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

Manual2 Ad Code

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলে যেন মাফিয়া সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। আর এই মাফিয়া সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মূল গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বিতর্কিত ‘হাবলু’। তার সরাসরি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে থেকে অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছেন ঢাকা মেট্রো সার্কেলের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী) মো. হাসান শওকত। হাবলু-হাসান শওকত জুটির লাগামহীন দুর্নীতি ও হরিলুটের কারণে আজ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কাজ এক টাকারও না হলেও ভুয়া মেজারমেন্ট বুক (এমবি) ও নথিপত্র তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করাই তাদের মূল কৌশল। শুধু অর্থ লোপাটই নয়, নিজ দপ্তরে বসে বস্তা থেকে কোটি কোটি টাকা বের করে টেবিলের ওপর গুনে গুনে ভাগাভাগি করার চাঞ্চল্যকর ভিডিও চিত্র ও প্রামাণ্য তথ্য সামনে এসেছে।
১০ তলার বিল তুলে কাজ ৮ তলাতেই শেষ
প্রাপ্ত নথির তথ্য প্রমাণে দেখা যায়, রাজধানীর পুরান ঢাকার ভবনভবন সংলগ্ন শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি পায় ‘বিল্ডার্স- সি,ডব্লিউ বি,ডি জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার নেপথ্যে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার। ২০২২ সালের ১৩ জুন কোনো কাজ না করেই ৯ম ও ১০ম তলার ভুয়া পরিমাপ দেখিয়ে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার চলতি বিল স্বাক্ষর করে পাস করিয়ে দেন হাসান শওকত।
পরিমাপ বইয়ের (এমবি) ৪৬ থেকে ৯৪ পৃষ্ঠা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যেসব খাতের বিপরীতে টাকা তোলা হয়েছে—যেমন ৯ম ও ১০ম তলার ছাদ ঢালাই (৪৯০,০০০ টাকা), মেম্ব্রেন ওয়াটার প্রুফিং (৭৪৬,৪৫০ টাকা), দেয়ালের ওয়াটার প্রুফিং (৬৫০,০০০ টাকা), সাটারিং, পিলার (৫১৪,০০০ টাকা), লিন্টেল ও রড (৪৯,০০,০০০ টাকা) বাবদ মোট ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা—তার কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি আজও ৮ তলা পর্যন্তই থমকে আছে। পরবর্তীতে সরকারি এই অর্থ অফিসে বসেই বস্তা ভরে ভাগাভাগি করা হয়, যার একটি ভিডিও দৃশ্যে দেখা যায় প্রকৌশলী হাসান শওকতের সামনে টেবিলের ওপর বস্তা থেকে লাখ লাখ টাকা বের করে রাখা হচ্ছে।
যেখানে গেছেন সেখানেই ভুয়া বিলের হরিলুট
গডফাদার হাবলুর মদদে হাসান শওকত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন:
মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: ২০২২ সালের জুনে বিদ্যুৎ লোড বৃদ্ধি ও ремонта জন্য প্রায় ১১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার কার্যাদেশ পায় ‘মেসার্স মেড-ইন বাংলাদেশ’। কোনো কাজ না করেই ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৮ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে বাকি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ভুয়া বিল করে তুলে নেওয়া হয়।
ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ উচ্চ বিদ্যালয়: ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ তলা ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দিয়ে কোনো কাজ না করেই ১০ লাখ টাকার বিল তুলে নেন হাসান শওকত।
আনোয়ারা বেগম মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ: কোতোয়ালি থানার এই প্রতিষ্ঠানেও কোনো কাজ ছাড়া বিলের ১৯ লাখ টাকার সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড়
চাকরিজীবনে যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছেন, সেখানেই জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট গড়ে তুলেছেন এই কর্মকর্তা।

তার স্ত্রীর নামে খুলনা ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া, মেহেরপুর সদর, মাগুরা সদর এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন বরুয়া এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি ও আলিশান জমিদার বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। মেহেরপুর সদরের বিভিন্ন খতিয়ানে ১০৫ শতকের বেশি এবং ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় নিজ ও স্ত্রীর নামে ১০ তলা ভবনসহ মোট ১৮৪.৩৩ শতক জমি ও রিসোর্টের মালিকানা গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

Manual5 Ad Code

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে খোলস বদলে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তা এখন গডফাদার হাবলুর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে শিক্ষা খাতের সরকারি তহবিল লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন।

Manual2 Ad Code

জনপ্রশাসন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সচেতন মহল অবিলম্বে দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড হাবলু ও তার প্রধান বাস্তবায়নকারী হাসান শওকতকে চাকরিচ্যুত করে বিভাগীয় মামলা দায়ের, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Manual6 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code