আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৮:৫৬

বার : শনিবার

ঋতু : শরৎকাল

ধর্মপাশা উপজেলা বংশীকুণ্ডা দক্ষিণে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা
উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ ও তাঁর লোকজনদের বিরুদ্ধে এই ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বিভিন্ন বসত বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, মারধর ও নারী নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার জয়পুর গ্রামে অনুষ্টিত মানববন্ধনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতুর নতুন বাজারের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এলাকাবাসীর ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. হোসেন আলী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে ওই নির্বাচনে বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজিম মাহমুদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত আকরাম হোসেনও এই নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩০), সাবেক চেয়ারম্যানের আপন ছোট ভাই সাইদুর রহমান (৫০) ও তাঁর ছেলে রাকিব মিয়া (২২), আরব আলীর ছেলে পিয়াস মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান ( ৫৮) ও তাঁর ছেলে সাগর মিয়া (২৪) ও সাবেক চেয়ারম্যানের আপন চাচাতো ভাই আবুল কালামের ছেলে মিশু মিয়া (২৬) বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। ইউপি নির্বাচনের পরাজয়কে মেনে নিতে না পেরে তাঁরা এলাকার মানুষজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, চুরি, চিনতাইসহ নানা অসামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করে আসছিলেন চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ। গত ২০ডিসেম্বর সন্ধ্যা অনুমান ছয়টার দিকে জয়পুর গ্রামের সামনের সড়ক সংলগ্ন সেতুর ওপর মোটরসাইকেল থামিয়ে জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আকরাম হোসেনের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান, সাইদুর রহমান, চেয়ারম্যানের ছেলে কাঞ্চন, ভাতিজা রাকিব, পিয়াস, সাগর, মিশু সমবেত হয়ে একই ইউনিয়নের সাতুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে মোটরসাইকেল চালক সৌরব মিয়ার (২২) কে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ৭৭হাজার ৫০০টাকা জোর পূর্বক তারা ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে সাতুর গ্রামের ১৫/২০জন লোক ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আকরাম হোসেনের ছোট ভাই মজিবুর রহমান (৫৮) ও সাইদুর রহমান (৫০)কে আটক করে। এ সময় ছিনতাইকারীর কাজে নিয়োজিত অন্যান্যরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে। পরে তাঁরা দুজন ছিনতাই করা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করায় তাঁদের কাছ থেক মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেন গ্রামবাসী।। ঘটনাটি তাৎক্ষনিকভাব চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে জানানো হয়। আর এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ ও তাঁর লোকজনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ২০ডিসেম্বর রাতের একটি কল্পকাহিনী সাজানো হয়েছে। আর এই সাজানো কল্প কাহিনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ এর নেতৃত্বে গত ২০ডিসেম্বর রাত দেড়টার দিকে ৩০-৩৫জন লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জয়পুর গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বসতঘরসহ আশপাশের কয়েকটি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও আকরাম চেয়ারম্যানের আপন দুইভাইকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর ও তাঁদের স্ত্রী সন্তানদেরকে নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আর এই মিথ্যা ঘটনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আকরাম হোসেনের লোকজন মিলে জয়পুর গ্রামে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ ও তাঁর লোকজনদের বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধন করেছে। এ ধরণের মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ ও তাঁদের লোকজনদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা ও তাঁদের সুনাম নষ্ট করার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের লোকজন নানাভাবে অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছেন। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ ও তাঁর লোকজনদের বিরুদ্ধে সাজানো এই মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আকরাম হোসেনের ছোট ভাই মজিবুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের নেতৃতে তাঁর লোকজন নিয়ে আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর , মারধর ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। চেয়ারম্যান নিজে ইয়াবাসেবী এব্ং তাঁর লোকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। এ ছাড়া ভারতীয় গরুর ব্যবসা করা সহ এলাকায় যতো অসমাজিক কার্যক্রম রয়েছে তার সবকিছুতেই আজিম চেয়ারম্যান ও তার লোকজন জড়িত রয়েছেন। তিনি নিজেকে বাচাতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, আমাকে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে আমাকে ও আমার লোকজনকে জড়িয়ে নানা মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে এলাকায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যে গুলোর কোনো ভিত্তি ও সত্যতা নেই। এলাকার মানুষজনকে নিয়ে আমি এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এলাকার সকল পেশার জনগণ আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমি সবসময় জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। তাই আমি ও আমার লোকজনদের বিরুদ্ধে যতো মিথ্যা বদনামই রটানো হোক না কেন জনগণ তা বিশ্বাস করবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মো.আব্দুল আজিজ, মনোয়ার হোসেন,
বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক শৈলেন সরকার ,
ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন রানা,
সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম,
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ,
সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ,
সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ আহমদ, সাংবাদিক মোবারক হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category