এম. এম আতিকুর রহমান ঃ
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের উত্তর পাঠনা গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ হাজী মোঃ সমজিদ আলী। গ্রামের মাতব্বর মরহুম আব্দুল বারির ৫ সন্তানের মধ্যে ২য় পুত্র তিনি।
আলোকিত শিক্ষাবিদ মাস্টার সমজিদ আলী পাঠনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করে ১৯৬৯ সালে সিলেটের মদন মোহন সরকারি কলেজ থেকে বিকম পাশ করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ঐতিহ্যবাহী পিসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতার মতে মহান পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে (তখন ছিল নিম্ন মাধ্যমিক) প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখান থেকে সর্ব শেষ ১৯৮৬ সালের শেষ দিকে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে এলাকার ঐতিহ্যবাহী এশিয়ার বৃহত্তর হাওরপারে হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে অত্যন্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
এই মহান শিক্ষাগুরুকে আজকে বড়লেখায় পেয়ে তাঁর ভাগনা আলহাজ্ব শামীম আহমদ সোহাগ হোটেলে নিয়ে আসলে অনেক দিন পরে দেখা হয় কথা হয় অনেক। ছাত্র জীবন থেকে পরিচিত শিক্ষক সমাজের অন্যতম মডেল সমজিদ আলী স্যার মনে প্রাণে ভালোবাসেন। আজকে তিনি বলেন আমার পিতা মরহুম হাজী ইছমাইল আলী মাস্টার সাহেবের কাছে অজমীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। আবেগে আপ্লূত স্যার অনেক ভুয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর হাজার হাজার ছাত্র আজ দেশে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। হাজী সমজিদ আলী স্যারের ৩ পুত্র সন্তানের মধ্যে ২য় পুত্র এনামুল হক ও ৩য় পুত্র আশরাফুল হক ইউকেতে এবং ১ম পুত্র সাবেক আরব আমিরাত প্রবাসী। সবার বড়ো কন্যা সন্তান মোছাম্মত নাসিমা আক্তার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের আদিত্যের মহালের মরহুম হাজী মুহিব আলী সাহেবর পুত্র শিক্ষক, বর্তমান বিছরাবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ নূর উদ্দিন।
আলোকিত মানুষের প্রতিচ্ছবি মানুষ গড়ার কারিগর হাজী সমজিদ আলী স্যার এখনো তরুণ যুবাদের সাহসী উচ্চারণেরে ন্যায় ৮৪ বছর বয়সেও বীরদর্পে হেটে চলেন পথে প্রান্তেরে।
আমরা তাঁর সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করছি মনেপ্রাণে।