অথই নূরুল আমিন:
পৃথিবীতে মানব জাতির আগমন ঘটার পর থেকেই, দুনিয়ার মানুষেরা ভালো খাবে, ভালো থাকবে,ভালো কিছু করবে মর্মে আপ্রান চেষ্টায় সকল মানব জাতি কঠিনভাবে ব্যস্ত সময় পার করে যাচ্ছে কালের পর কাল আর যুগের পর যুগ। আর সেই ব্যস্ততা থেকেই আজ পর্যন্ত যা ঘটেছে। তার বেশিরভাগ বিষয় গুলো বিজ্ঞান আবিস্কার করে চলেছে প্রতিনিয়ত।
আজকের এই লেখায় আমি খুব বেশি অতিতে না যাই। বর্তমান আর আংশিক আগামী নিয়ে কিছু আলোচনা শুরু করছি মাত্র। সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে বিজ্ঞান যা কিছু আবিস্কার করেছে । তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিস্কারটিই হচ্ছে বিদ্যুত। আর এই বিদ্যুতের আবিস্কার থেকেই মানুষেরা আবিস্কার করেছে লক্ষ লক্ষ প্রকার ছোট বড় মিল কলকারখানা ফ্যাক্টরি এমনকি বর্তমানে আমরা যে ফার্মের মোরগ – মুরগি বা ফার্মের ডিম খাচ্ছি। তাও বিদ্যুত ধারাই পরিচালিত। কৃষি ও খামারে আজকে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার যা অনেকটাই জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার চলছে প্রায় সবক্ষেত্রে। বর্তমানে হলুদ মরিচসহ বিভিন্ন মসলা গুলো গুড়া করতে হচ্ছে বিদ্যুত চালিত অটোমেটিক মেশিনে।
অন্য দিকে ডিজেল পেট্রোল অকটেনসহ এই জাতীয় জ্বালানি নির্ভর হয়ে গেছে, রেল,লঞ্চ,বাসসহ নানারকম বাহন। আমরা যদি একবার খুব গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখা যাবে, বিজ্ঞান ধারা আবিস্কার হয়েছে যা, যেমন ঘরের ফ্যান- এসি। এবং সমগ্র বিশ্বের নব্বই ভাগ মানুষ আজকে বিজ্ঞান ধারা তৈরি বা আবিস্কার হয়েছে যা, তার উপরেই নির্ভরশীল। আজ থেকেই যদি বিদুত বা জ্বালানি আর না থাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কৃত্রিম সংকটের কারনে। আগাম থেকেই যদি আর এলপিজি গ্যাস পাওয়া না যায়? তাহলে বাংলাদেশসহ সমগ্র দুনিয়ার প্রথম এক বছরে পঞ্চাশ ভাগ মানুষ অনাহারে রোগে শোকে মারা যাবে। তা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। বাকীরা যে মারা যাবে না তা কিন্তু নয়। যাদের অটল সম্পদ আছে। তারা হয়তো অর্থ দিয়ে কিছুদিন বেচে থাকতে পারবে । এছাড়া পৃথিবীর অসংখ্য দেশ এখনো আছে তারা আজও আধুনিক যুগে প্রবেশ করেনি। তাদের বেলায় বিদ্যুত সংকট বা জ্বালানি সংকট হয়তো এতটা প্রভাব নাও পরতে পারে। আপাতত উন্নত দেশগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম।
প্রথমে আমাদের বাংলাদেশের কথাই বলি। বিদ্যুত এবং জ্বালানি নির্ভর বতর্মানে সারা দেশ। ঘরে রান্না করার সিলিন্ডার (এলপিজি ) গ্যাস থেকে শুরু করে, কৃষিখাত, হাস মোরগ ফার্মে মিল কারখানা এমনকি স্থলের ও জলের যানবাহনসহ দেশের নব্বই ভাগ মানুষ কিন্তু জড়িত হয়ে পরেছে বিজ্ঞান যা আবিস্কার করেছে তার উপরেই নির্ভরশীল । এরকম পেশা গুলো বিদ্যুত সংকটে বা জ্বালানি সংকটে যদি বন্ধ হতে যায়। তাহলে মানুষের ঘুরে দাড়াবার আর বিকল্প কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। আজকের দিনে বাংলাদেশের নব্বইভাগ জনগণ যেভাবে বিজ্ঞান ধারা পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষেতে খামারে যানবাহনে এককথায় দোকানের ওজনের পাল্লাটাও আজকে ডিজিটাল হয়ে গেছে যা বিদ্যুত ধারা পরিচালিত। বিদ্যুত এবং জ্বালানির সংকট যত বাড়বে । ততই মানুষেরা বেকার হতে থাকবে। আর অন্য দিকে ততই সমাজে অসামাজিকতা বাড়তে থাকবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে থাকবে। এককথায় দেশের সিংহভাগ মানুষেরা কঠিন বিপদে পরে যাবেন। অসংখ্য বা সীমাহীন বিপদ যাকে বলা হয়।যার প্রকৃত রূপরেখা এই ক্ষুদ্র লেখায় উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তারপরও সবাই ভালো থাকুক এই কামনা রইল।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা, গ্রন্থ লেখক