অথই নূরুল আমিন:
বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসলেও তাদের জন্য তেমন সুখবর নেই। তার প্রথম কারণ হচ্ছে জামায়াত পন্থী ফটকা বা দুষ্ট মোস্ট ক্রিমিন্যাল ড. ইউনূস। এই ইউনূস সরকার বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের কোনরকম উন্নয়ন না করেই, ২৩ লাখ কোটি টাকা বিদেশি খেলাপি ঋণ করেছে । যা দেশের প্রায় তিনটি জাতীয় বাজেটের সমান। ঐ টাকার বেশিরভাগই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে সুকৌশলে । যার কোনো হদিস বিএনপি সরকার বের করতে পারবে বলে মনে হয় না। যার ফলে বিএনপি ক্ষমতা ভার বুঝে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে চরমভাবে। তখনই দেশের জনগণ বিরক্ত হতে থাকবে ধীরে ধীরে । আর একটা গ্রুপ সরকার পতনের আন্দোলন করতে থাকবে তখন প্রতিনিয়ত । তখনই আবার একটা বিব্লব ঘটবে। এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে বিএনপি সরকার।
আমার মতে বিএনপি এখনো গভীর এক যড়যন্ত্রের শিকার যা তাদের অস্তিত্ব বিলিনের এক কঠিন যড়যন্ত্র। কারণ হলো অভাবের সংসারে পরিপূর্ণ মেহমান সেবা করা যায় না। আজকে যে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জনাব তারেক রহমান। সেই দেশের ভিক্ষার ঝুলি ধরিয়ে দিয়ে ইউনূস সরকার। অথচ পণ্যের মূল্য চড়া এবং চড়া ভ্যাট যখন বিএনপি সরকার জনগণের উপর প্রয়োগ করবে। তখনই জনগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাদের পিছনে লাগবে পতনের জন্য।
গ্রামের ভাষায় একটা প্রবাদ আছে। তা হলো বড় ভাইকে কুয়াশায় হাটতে দিলাম। সম্মানও দেখানো হলো। আর কুয়াশাও ভাঙ্গা হলো। এক থেকে দেড় বছরের ভিতরে আরেকটি পতনের আভাস পাচ্ছি। কারণ বিএনপি কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০৯৬ সালেও ব্যর্থ সরকার ছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ ব্যর্থ সরকার ছিল ।
১২ তারিখ ২০২৬ সারাদিন বিএনপিকে জনগণ ভোট দিয়েছে। তাদের অনেকেই বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। আর অন্যরা ভোট দিয়েছে ৭১ বিজয় হওয়ার জন্য। এখানে চরম মুর্খতার প্রমাণ দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী। ওরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা এবং হ্যা ভোটের ব্যালট প্রচার করাতে দেশের সিংহভাগ জনগণ মনে করেছে। জামায়াত গোটা বাঙালি জাতির অস্তিত্ব বিনষ্ট করতে চাচ্ছে। এরকম ভয় থেকেও অসংখ্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন।
জামায়াত আসলে কোনদিনও একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না। তবে ওরা ক্ষমতায় আসতে চায় ওদের ভিত্তি মজবুত করার জন্য। কিন্তু জামায়াত যখনই জানতে পারল। ইউনূস দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ করেছে। ২৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ করেছে। তখনই তারা পিচপা হয়ে গেছে আপাতত ক্ষমতায় আসবে না বলে। তাই তারা ধীরে চল নীতি অনুসরণ করে নির্বাচন মেনে নিয়েছে। এই কৌশল হলো বিএনপিকেও মহা বিপদে ফেলে দেবার জন্য ।
পরিশেষে বলতে চাই যদিও বিএনপির ২০০ আসনের বেশি এমপি বিজয়ী হয়েছেন। তাতেও তাদের জন্য সুখবর নেই। এখানে ইউনূস গং সুপরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনৈতিক যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইউনূস ক্ষমতা ছেড়ে যাবার পর আর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশের জনগণ কিন্তু ইউনূসকে আর দোষ দিবে না। বিএনপি বিরোধী চক্র জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হবে বিএনপি রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থ।
তখনই দেশের সিংসভাগ জনগণ এককথায় যারা ভূক্তভোগী হবে তারা বিএনপি বিরোধী চক্রের সাথে আবার শ্লোগান তুলবে। ” অমুক বিএনপি ক্ষমতা ছাড়, ক্ষমতায় তোদের চাই না আর “। এখানে কথা থাকে যে, অর্থহীন সরকার তখনই নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে অসংখ্য দুর্নীতি করতে হয়। যেমন অনেক লোক জীবন বাচাতে চুরি পেশা বেচে নিয়ে থাকে। যাক প্রিয় পাঠক, আমার এই লেখা পড়ে কিছু মনে করবেন না। দেশের মানুষ তারেক রহমান কে ভালো বেসে ভোট দিয়েছে। দেশটা যেন ভালো চলে। কিন্তু আমার জরিপে সেরকম ভালো কিছু দেখছি না। তারপরও দোয়া করি সবকিছু যেন ঠিক থাকে। ( পর্ব এক )
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
১৩. ফেব্রুয়ারি ২০২৬