বিশেষ প্রতিনিধি:
পহেলা বৈশাখ,ঈদ,পূজা বা যেকোনো উৎসবের দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ আনন্দে মেতে ওঠে,তখন হাসপাতালের ডাক্তার,নার্স, মিডওয়াইফ,স্বাস্থ্যকর্মী,অ্যাম্বুল্যান্স চালক, নৈশপ্রহরী,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তাদের ব্যক্তিগত আনন্দ বিসর্জন দিয়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং মানবতার সেবাই তখন সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে।
এই উৎসবের দিনগুলোতেও হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিভাগ,লেবার রুম,অপারেশন থিয়েটার এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাব ২৪/৭ চালু রাখা হয়। জনবল সংকট,চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, রোগীদের দূর্বব্যবহারসহ নানা অনিরাপত্তার মধ্যেও ডাক্তার-নার্স,ওয়ার্ড বয়রা রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রোস্টার অনুযায়ী কাজ করেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট ও হাম-রুবেলার মতো মহামারীতে উৎসবের ছুটিতে ডাক্তার-নার্সদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থাকতে হয়,যাতে রোগীরা যথাযথ সেবা পেতে পারেন। দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে জরুরি বিভাগে চাপও বেড়ে যায়। এসব পরিস্থিতিতে ডাক্তার-নার্সদের ত্যাগের কারণে হাজারো রোগী সুস্থ হয়ে পরিবারে ফিরে যেতে পারেন। পহেলা বৈশাখের মতো রঙিন দিনে যখন সবাই উৎসবে মেতে থাকে,তখন তারা কর্মস্থলে,রোগীর শিয়রে উৎসবের আনন্দ বিসর্জন দেন।
মিডওয়াইফরা উৎসবের দিনেও নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের জীবন রক্ষায় নিরলস কাজ করে যান। পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন হলেও তাদের বাধ্যতামূলকভাবে হাসপাতালে থাকতে হয়। উৎসবের সময় রাস্তায় যাতায়াত সমস্যার কারণে প্রসূতি মায়েরা হাসপাতাল পৌঁছাতে দেরি হলে,সেক্ষেত্রে মিডওয়াইফদের জন্য তা চরম উত্তেজনার মুহূর্ত তৈরি করে। তবে তাদের জন্য পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় উপহার হলো সুস্থ শিশুর জন্ম এবং একজন মায়ের হাসি। এই উপহারই তাদের উৎসবের অভাব ভুলিয়ে দেয়।
একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) শুধু একজন চিকিৎসকই নন,তিনি পুরো উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান প্রশাসনিক অভিভাবক। উৎসবের দিনে যখন জনসমাগম বেশি থাকে,তখন তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ,অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ডাক্তার-নার্সদের রোস্টার ডিউটি তদারকি করার জন্য সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকতে হয়। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রমও।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন সমগ্র উপজেলাবাসীকে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বঙ্গাব্দের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “উৎসবের দিনেও আপনাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার,নার্স, মিডওয়াইফ এবং প্রতিটি কর্মচারী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে না পারলেও,আপনাদের সুস্থতা ও সেবা আমাদের কাছে পরম সার্থকতা।”
সিলেট নিউজ/এসডি.