নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের, বাজিতপুর, উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মরহুম আবুবাক্কারের একমাত্র কন্যা পারুল আক্তার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরহুম আবুবাক্কারের সহোদর হযরত আলী, মহব্বত আলী ও ফতে আলীসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে আবুবাক্কারের রেখে যাওয়া সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি গত ২৬ এপ্রিল সকালে পারুল আক্তারের পৈতৃক ধানক্ষেত থেকে জোরপূর্বক ফসল কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, মরহুম আবুবাক্কারের নামে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ির জমি (সাফ কাওলা) থাকলেও বর্তমানে মোট ৯৭ শতাংশ বাড়ির জমি তার ভাইয়েরা দখলে রেখেছেন। এছাড়া বিমলা খাতুন, কমলা খাতুন ও কমরুনাহার নামের কয়েকজন স্বজনও এই জমি দখলে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারুল আক্তার জানান, তিনি তার প্রাপ্য ওয়ারিশ অংশ বুঝে পেতে বহুবার অভিযুক্তদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি সমঝোতার মাধ্যমে বণ্টননামা দলিল বা সোলেনামা করার প্রস্তাব দিলেও অভিযুক্তরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। বরং জমির দলিলপত্র চাইতে গেলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার কাছে হুমকির অডিও রেকর্ডও রয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে, তার নাবালক ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শাওন এবং বৃদ্ধা মা ফাতেমা বেগমকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, পারুল আক্তার পেশায় একজন সংবাদকর্মী এবং তিনি তার পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী। বর্তমানে তার মা ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে বসবাস করায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে অভিযুক্ত হযরত আলীর দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে পারুল আক্তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ভুক্তভোগী পারুল আক্তার বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার ন্যায্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।