জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী এলাকায় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে হাওরে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আজ ২৩ জুলাই বিকেল ৪টায় উপজেলার সরাল বিল, চিতলী হাওর এবং কাটা গাং ডোরে এ অভিযান চালানো হয়। জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ৪০টি ক্ষতিকর রিং জাল আটক করা হয়।
পরে সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিনের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত সবকটি রিং জাল আগুনে পুড়িয়ে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিন বলেন:
“ক্ষতিকর রিং জাল ব্যবহারের ফলে হাওরের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের দেশীয় মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় এবং অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অবৈধ উপায়ে মাছ শিকার রোধে মৎস্য বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় আমাদের এই তৎপরতা চলমান থাকবে।”
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন:
“হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধিতে অবৈধ জালের ব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। নিষিদ্ধ রিং জাল দিয়ে মাছ শিকার করলে মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”