নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতারক চক্র, ডেভেলপার সিন্ডিকেট ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে নগদ টাকা পরিশোধ করার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং উল্টো মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পৃথক ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড এবং মাইশা গ্রুপ প্রোপার্টিজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কায়দায় হুমকি প্রদানের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
জাপান প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধার ফ্ল্যাট আত্মসাতের অভিযোগ
প্রতারক চক্র ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে নগদ টাকা দিয়েও ফ্ল্যাট ও গাড়ি পার্কিং না পাওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাপান প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা মুহাম্মদ ইকরামুল হক। আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুহাম্মদ রিয়াজুল হাসান।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আল ফালাক রিয়েল স্টেটের মালিক এস. এম. জাকারিয়া ও ম্যানেজার মো. ছিদ্দিকুর রহমানের নিকট থেকে ৪টি ফ্ল্যাট এবং ৪টি গাড়ি পার্কিংসহ মোট ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় ক্রয় করেন প্রবাসী ইকরামুল হক। ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি নগদ অর্থে সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।
এছাড়া মাইশা গ্রুপ প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হায়দার আলী শেখের নিকট থেকে ২টি ফ্ল্যাট ও ২টি গাড়ি পার্কিংসহ ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গা ৯২ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয়। ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বায়না রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করা হলেও ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ফ্ল্যাটগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন না এবং টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। উল্টো কালক্ষেপণ করে ভুক্তভোগী রেমিটেন্স যোদ্ধার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও মানহানিকর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি ও গুমের চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
স্যানিটারী ব্যবসায়ী মো. মাজহারুল ইসলামের করুণ ভুক্তভোগী বক্তব্য
একই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে অপর এক ভুক্তভোগী স্যানিটারী মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী (এসএম ট্রেডিং) মো. মাজহারুল ইসলাম তার ওপর চলা নির্যাতনের করুণ বিবরণ তুলে ধরেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানীতে মেটেরিয়ালস ও স্যানিটারী মালামাল সরবরাহের সুবাদে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড-এর প্রজেক্ট (বাড়ি নং ২৯, রোড নং ৪, ব্লক এফ, সেকশন-১, মিরপুর, থানা: শাহ আলী, ঢাকা, হোল্ডিং নম্বর: ১-জি / ১-১, জমির পরিমাণ: ০·২৮৬ শতংশ) এর সাথে তার পরিচয় হয়। রাজউক কর্তৃক ৭ম তলা অনুমোদিত নকশার নির্মাণাধীন ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর বা ১৩৭৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি গত ০৭/০৮/২০২৩ তারিখে মোট ৭২,০০,০০০ (বাহাত্তর লক্ষ) টাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে নির্ধারিত হয়।
মাজহারুল ইসলাম মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার মহোদয়ের সম্মুখে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়াকে নগদ ৭০,০০,০০০ (সত্তর লক্ষ) টাকা পরিশোধ করেন এবং এস এম জাকারিয়া টাকা বুঝে পেয়ে বায়না রেজিস্ট্রি দলিল (দলিল নং ৭৫৩৬) সম্পন্ন করেন।
দলিল সম্পাদনের ১ বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে ১৫/০৭/২০২৪, ০৮/০৮/২০২৪ এবং সর্বশেষ ১৯/১২/২০২৪ তারিখে ৩টি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হলেও কোম্পানি কোনো কর্ণপাত করেনি। উল্টো ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেওয়া শুরু করে।
কোনো উপায় না পেয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অবশিষ্ট ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা/জামানত রেখে গত ০৪/০৮/২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-৫৯৩/২০২৫ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড-এর লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দিয়ে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি মনিপুরের ৬০ ফিট মেইন রাস্তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে অনলাইন পত্রিকা ও ফেসবুকে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচারের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণনাশ ও হাত-পা ভেঙে ফেলার একাধিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলাম বাধ্য হয়ে গত ৩০/১২/২০২৫ তারিখে মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (নম্বর-৩৮১৮) এবং ২৮/০২/২০২৬ তারিখে অপর একটি সাধারণ ডায়েরী (নম্বর-৩২২৯) করেন।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
উভয় ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড-এর কর্ণধাররা সাধারণ ক্রেতা ও প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রবাসী ইকরামুল হক এবং ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম তাদের কেনা ফ্ল্যাটগুলো ফিরে পেতে এবং এই প্রতারক ও সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।