অথই নূরুল আমিন:
প্রিয় পাঠক / পাঠিকা, বন্ধুরা ও দেশবাসী, আশাকরি সবাই ভালো আছেন। গতকাল আমার পেশার নিম্নমুখী হওয়ার ফলে নির্ধারিত কলাম লেখা হয়নি। তবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আজকের এই লেখা। এখানে উল্লেখ্য যে, সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন দুটি একই সঙ্গে সর্বসম্মতি ক্রমে পাস হলো। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। যাদের কর্মী – সমর্থক রয়েছে দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে এবং বিদেশেও। এছাড়া স্বাধীনতার গত চুয়ান্ন বছরে তাদের রয়েছে ভালো বা মন্দ যাই বলি না, কেন অসংখ্য কাজকর্ম ।
যদিও আমি ২০১৩ সাল থেকে আওয়ামী লীগের ভুল সিদ্ধান্ত গুলো নিয়ে লেখালেখি করে আসছি। ২০১৩ সাল থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পযর্ন্ত আওয়ামী লীগ এই জাতির সাথে উন্নয়নের নামে, সুকৌশলে অনেক অমানবিক আচরণ তেমনি করেছে নির্যাতন ও শোষণ। এসব আমি প্রতিদিনই তখনকার সময় প্রতিবাদী লেখালেখি করেছি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে। তা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই। ঘরে পাক করা বা ঘর পরিস্কার করার বুয়া পরিবর্তন হতেই পারে। তাতে গৃহকর্ত্রীর কি বা আসে যায়। একজন যাবে অন্যজন আসবে এটাই নিয়ম।
বলছিলাম আমাদের দেশের রাজনীতি দলের কথা। দেশের সেবা করার শ্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসে। বিশেষ করে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাহলে দেশ চালানোর জন্য তো সমস্যা হবার কথা নয়। যে দেশে আওয়ামী লীগ নেই, সেই দেশ কি চলছে না? বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসে এরকম কত দল আর কত কোম্পানি ধারা গোটা একসময় ভারতবর্ষ পরিচালিত হয়েছে। আমি সেই সব বিষয় নিয়ে আজকে লিখছি না।
তবে কথা থাকে যে, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে একটি রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ বিল পাস করাটা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করেছে কিনা? আমাদের দেশে বিগত সময়ের ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়। যতবার একজন সেনাপ্রধান বদল হয়েছে। ততবার দেশের রুপ বিভিন্ন আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনাসহ হাজারো নেতাকর্মী, মন্ত্রী- এমপিরা বাংলাদেশের আইনে যারা অপরাধ করেছে। তাদের বিচার হোক কঠিনভাবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। আজকে যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আইন পাস হলো। তা কতদিন বলবদ থাকবে এটা কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়।
অন্য দিকে আজকে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আছে। আগামী দুই তিন বছরের ভিতরে তারাও যদি ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠে। এবং তাদের ও দেশ ছেড়ে পলায়ন করতে হয়। তখনও কিন্তু আরেকটি সংসদ অধিবেশনে বিএনপি নিষিদ্ধ বিল পাস হবে। বিগত সময়ে ওয়ান ইলেভেন এর সময় মাইনাস টু ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে যারা চেয়েছিল। সেদিন কিন্তু তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়ে যাবে শতভাগ । এরকম বিষয় ছাড়াও কিন্তু আরো অনেক বিষয় আছে। তার মধ্যে অন্যতম বিষয় হলো। আগামী দুই তিন বছরের ভিতরে যদি দেশে আবার কখনও সেনা শাসন আসে, যদি আরেকটি মার্শাল ল আসে। তখন কিন্তু আজকের এই সংসদ অধিবেশনের সবকিছু অচল হতে পারে। তখনও কিন্তু আওয়ামী লীগ আবার দেশের মধ্যে রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পেতে পারে। এছাড়া আওয়ামী লীগ গত ষোল বছর যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছে। বতর্মান সরকার বা তার পরবর্তী সরকার যদি আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ দেশ চালায় । জনগণ যদি অর্থহীন হতে থাকে। কর্মহীন হতে থাকে। তাহলে কিন্তু দেশের সুবিধাবঞ্চিত ষাটভাগ জনগণ “আওয়ামী লীগ চাই” বলে জোরেশোরে যদি মিছিল মিটিং করতে থাকে। তাতেও কিন্তু আওয়ামী লীগ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এত তাড়াহুড়ো করে সংসদে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আইন পাস করা বিএনপির জন্য ঠিক হয়েছে কিনা? সময় হয়তো একদিন তার সঠিক উত্তর দিবে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখকও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক
৮. এপ্রিল ২০২৬