অথই নূরুল আমিন:
একজন যোগ্য লোক, লাখো লোকের চেয়েও কিন্তু উত্তম। যদি তিনি সত্যি সত্যি যোগ্য হয়ে থাকেন। আর একটা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে যোগ্য লোকের অবশ্যই দরকার। বিশেষ করে বতর্মান বিএনপি সরকারের বেশকিছু কাজে ভুল হচ্ছে। রাষ্ট্রের অসংখ্য পরিপাটি কাজের কোনো পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে না । এছাড়া দুর্নীতি ও হচ্ছে চরমভাবে। ভূক্তভোগী জনগণ কোন ধরনের সুফল ও পাচ্ছে না বতর্মান বিএনপি সরকারের কাছে। নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বলে বেসরকারি চাকরিজীবি এবং দৈনিক হাজিরার শ্রমিকেরা অর্থকষ্টে জীবনযাপন করছে প্রতিনিয়ত।
এখন পর্যন্ত বিএনপি সরকার জনগণের জন্য, নুন্যতম সুফল কোন কাজ করতে পারেনি। উচিৎ টাকা দিয়েও বিদ্যুত, গ্যাস, স্যার জনগণ পাচ্ছে না ঠিকমতো । এরকম একটা হিতাহিত জ্ঞানহীন সরকারের কাছে জনগণ আর কি আশা করতে পারে? না, পারে না। বতর্মান সময়ে দেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। যেমন খারাপ সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা। তেমনি খারাপ দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা।
বিএনপি সরকারের গত সাত মাসে, জনগণের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে উল্টা জনগণের খরচ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে আরো দ্বিগুণ । বিদ্যুত এর দাম, তেলের দাম সরকারিভাবে ঘোষণা দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারে থাকা কৌশলীরা কখনও কি ভেবে দেখেছে। বাংলাদেশের প্রায় চল্লিশ ভাগ জনগণ ভাড়া বাসায় থেকে জীবনযাপন করছে। এখানে বিদ্যুতের বিল বাড়িয়ে দেয়া মানেই, বাড়ির মালিক ঘর ভাড়া বাড়িয়ে দিবে। তখন সেই গরিব বা অল্প বেতনে যারা চাকরি করছেন। তাদের কি করুণ অবস্থা হবে ? এরকম ভাবনা কিন্তু সরকার ভাবেনি।
এদিকে তেলের দাম ও কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের কৌশলীরা কি জানে, অল্প বেতনে যারা চাকরি করে, তারা কিভাবে পাবলিক পরিবহনে চলবে বেশি ভাড়া দিয়ে? এভাবে জনগণের প্রকাশ্য শত্রু হয়ে যাবে বিএনপি সরকার। এরকম ভাবনা কেউ ভাবেনি। জনগণ বুঝতে পারছে না, এরকম অগোছালো রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য কারা পরামর্শ দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে?
জনগণ বলাবলি করছে। তারেক রহমান যে প্রধানমন্ত্রী, এটা যেন দেশের কোন সরকারি কর্মকর্তাই মেনে নিতে পারছে না। তাই তারা তাদের নিজ জায়গা থেকে কোন কাজও করতে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিদ্যুতের বেহাল দশা দেখে দেশের জনগণ চরমভাবে হতাশ। গত সাত মাসেও যে সরকার বিদ্যুতের সমাধান করতে পারেনি। এই সরকার আগামী পাঁচ বছর এমনকি দশ বছরেও পরিপূর্ণ বিদ্যুত সরবরাহ করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।
যেদেশে বারো কোটি জনগণ নিম্ন আয়ের। তার মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি জনগণ সবচেয়ে বেশি অর্থকষ্টে রয়েছে। প্রায় তিন কোটি জনগণ যে দেশে বেকার। সেই দেশে সকালে বিকেলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতা দিয়ে। সমগ্র দেশটা যেন দেউলিয়া হবার পালা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী ছিলো,তারা কিন্তু আজকে অনেকেই দেশের মধ্যেই নেই। তখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তেজগাঁওয়ে, দেশের জনগণ অসংখ্য চিঠিপত্র পাঠিয়েছে। তখনকার সময়ের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, একান্ত সচিবসহ অনেকেই সেই সকল চিঠির কোনো গুরুত্ব তারা দিত না। এমনকি অসংখ্য চিঠিপত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর তারা পৌঁছনোর চেষ্টাই করতো না।
আজকে ও কিন্তু বতর্মান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, একান্ত সচিবসহ অসংখ্য সচিব রয়েছেন। আশাকরি আমার এই চিঠিটা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করাবেন। অবৈতনিক ভাবে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন করে দিবে। বছরে প্রায় লাখ কোটি টাকার কাজ করে দেয়ার মতো যাদের সক্ষমতা রয়েছে, নো বিদেশী ঋণ নো রাজস্ব বোর্ড এর অর্থ। আমি তাদেরকে চিনি। সেই ধরনের যোগ্য লোক দরকার বতর্মান প্রধানমন্ত্রীর সাথে। এতে আপনাদের ডাল ভাতে কমতি হবে না, কারণ তারা এখানে অর্থের বিনিময়ে কাজ করতে আসবে না। জাষ্ট সাময়িক কিছু পরামর্শ প্রদান করবেন।
আজকে আপনারা যারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চাকরি করছেন। যদি সরকার তার চরম ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগ করতে হয়। নতুবা জনগণের আন্দোলনে দেশ ছেড়ে পলায়ন করতে হয়। তখন এখানে অন্য কোনো সামরিক সরকার অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে আপনারা কি এখানে চাকরি করতে পারবেন?
আমি যতটুকু জানি, পারবেন না। তাহলে এর পূর্বেও প্রায় দশটার বেশি চিঠি দিয়েছি। কেন সেই চিঠি গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি জানি না।
আজকের লেখাটি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা এবং বতর্মান সরকারের সকল মন্ত্রী – প্রতিমন্ত্রী এবং সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও তাদের পিএস এপিএস এবং দেশের সকল সংবাদ পত্র – টেলিভিশন মিডিয়া, অনলাইন পোর্টালসহ একাধিক জায়গায় প্রতিষ্টানে প্রেরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান, গুলশান, সেনাবাহিনী প্রধান, ঢাকা সেনানিবাস, ডিজিএফআইয়ের প্রধানসহ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি – র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাছেও প্রেরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশ ভালো থাকুক। দেশ ভালো চলুক। বিএনপি সরকারের সুনাম আসুক। বিএনপি সরকার ভালো কাজ করুক। জনগণের মুখে হাসি আসুক, সবাই বলুক সাবাস সাবাস দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ। আর শত্রুরা সব চেয়ে চেয়ে দেখুক।
বিঃ দ্রঃ আমার এই চিঠি পড়ার পর যদি কারো মনে কোনরকম আঘাত লেগে থাকে। এ আমার অনিচ্ছাকৃত। এবং কোনো শব্দচয়নে যদি ভুল হয়ে থাকে তাও অনিচ্ছাকৃত। ভালো থাকবেন সবাই।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক
মোহাম্মদপুর, ঢাকা – বাংলাদেশ।
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৫৫৬৫০৭১৩৪,