অথই নূরুল আমিন:
সারাদেশ জুড়ে জনগণের একটা বৃহৎ একটি অংশ খুশিতে আটকানা হয়েছিল। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে অর্থাৎ শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে। দেখা যায় ৮ আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন সন্ধ্যার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় দেশের জনগণের উল্লাস যেন আর বাধ মানে না। বাধ ভাঙ্গা উল্লাসে দেশের প্রায় সকল জনগণ আনন্দিত হয়েছিল। সবাই মনে করেছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান হলে গোটা দেশটাই একটা স্বর্গের রূপ নিবে। আর আমরা সবাই হবো সেই সুখ সাগর স্বর্গের অমর বাসিন্দা , কিন্তু সেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস এককথায় সমগ্র জাতির মুখে চুন কালি মাকিয়ে দিয়ে প্রায় আঠারো মাস পর বিদায় নিলেন। জাতির স্বার্থরক্ষার নামে যেন করেছেন শত শত ভন্ডামি আর নতুন নতুন নাটক ।
তারপর বিএনপি ক্ষমতায় এলো, শেখ হাসিনা পতনের প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে, সেই আগের মতই সুবিধাবঞ্চিত হয়ে দেশের জনগণকে জীবনযাপন করতে হচ্ছে নীরবে নিভৃতে। অথচ এই সুবিধাবঞ্চিত জনগুষ্টি কিন্তু মনে করেছিল। তাদের জীবনে আমুল পরিবর্তন আসবে। কারণ শেখ হাসিনার আমলে পনেরো বছর ধরে দেশের জনগণের জন্য ছিল এক শ্বাসরোধ পরিবেশ। জনগণের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার উপরে সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের। তাই জনগণ শেখ হাসিনার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ ছিল।
এখানে এখন যারা ক্ষমতায় আছে, এবং বিরোধী দলে আছে, সবাই কিন্তু সেই ৫ আগস্টে বিজয় র্যালী করেছিল। তখন তারা বলেছিল এটা এই জাতির দ্বিতীয় স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার মধ্যে আর ফ্যাসিবাদ জন্ম হতে দেয়া হবে না। দেশের জনগণের কাঙ্ক্ষিত সকল দাবি পূরণ করা হবে। আসলেই তো ওরাও জাতির সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। সরকার দল দোষারোপ করছে বিরোধী দলের। আর বিরোধী দল বলছে সব দোষ সরকারের।
এই যে একটি প্রবাদ আছে,” শীলে পাটায় ঘসাঘসি মরিচের জান শেষ”। আসলেই তো তাই। দেশের জনগণ কিন্তু দ্বিতীয় স্বাধীনতার কোন ফল এখন পর্যন্ত পায়নি। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা কিন্তু কোন কিছু পূরণ হয়নি। একদিন এমনও সময় আসতে পারে। জনগণের কাঠগড়ায় দাড়াতে হতে পারে। যারা জুলাই যুদ্ধা পরিচয় দিচ্ছে। এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে করে যাদের পেঠ বড়ো হচ্ছে। যাদের চেহারায় উজ্জ্বলতা ফিরে আসছে। অন্যদিকে যাদের ব্যাংক ব্যালেন্স ভারী হচ্ছে। তাদের জন্য ভবিষ্যতে জবাব দিহিতা আসতে পারে কোন দিন।
জুলাই আন্দোলনের মুল উদ্দেশ্য ছিলো কোটা সংস্কার দেশ তথা সমাজের বৈষম্য দূর করার আন্দোলন। যার ফলে দেশের প্রায় সকল শ্রেণি পেশার জনগণ সেই জুলাই আন্দোলনে কেউ প্রকাশ্যে কেউ নীরবে সমর্থন দিয়েছিল। অথচ আজকে দেখা গেলো অনেকের সরকারি চাকরি হচ্ছে না। তার ভূমি নেই বলে অনেকের চাকরি হচ্ছে না তার মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন বলে। এরকম অসংখ্য বিষয়ের কোন সমাধান হয়নি এখনো। এখন সরকার বলছে। তারা সংবিধান মতে চলছে। আর জুলাই যুদ্ধারা বলছে সরকার তাদের কথা রাখছে না।
তবে জনগণ কিন্তু তা দেখছে না। আজকে সরকার দল বিরোধী দল যদি ভিন্ন ভিন্ন নাটক করে করে সময় নষ্ট করে। আর দেশের জনগণের জন্য যদি কোনরকম সুযোগ সুবিধা না আসে বা না হয়। তাহলে এই দেশের ভূক্তভোগী জনগণ কিন্তু একদিন চরম প্রতিশোধ নিতে পারে। যে প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে যেতে পারে পেঠের চর্বি। শরীরের জৌলুস, এবং নিঃশ্ব হতে পারে ব্যাংক ব্যালেন্স। এখানে সরকার দল আর বিরোধী দল নাটক যতই করো। দেশের জনগণ নিয়ে যতই তামাশা করো। প্রকৃতি কিন্তু কঠিন বিচারক। তা ভুলে গেলে চলবে না।
তোমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যদি কোনো সুফল বহে আনতে না পারে। জনগণ যখন নিশ্চিত হবে যে আসলেই দ্বিতীয় স্বাধীনতা একটা ছলনা ছিলো। সমগ্র জাতিকে নিয়ে একটা তামাশা ছিল। তখন কিন্তু তোমাদের বিরুদ্ধে ও কোন এক জেনারেশন রুখে দাড়াতে পারে। সত্যি সত্যি তোমরা ব্যর্থ হলে পঞ্চাশ বছর পরেও তোমরা বিচারের মুখোমুখি হতে পারো। যে কোনো মূল্যে তোমাদের দরকার সমাজের বেশকিছু বৈষম্য দূর করা। এছাড়া জনগণের জন্য কল্যাণকর কিছু আইন করে যাওয়া। আমি আবারো বলছি সত্যি যদি তোমরা জনগণের কল্যাণ করতে ব্যর্থ হও। তাহলে নিশ্চিত তোমাদের জন্য সামনে ভয়ংকর দিন অপেক্ষা করছে।
তোমরা বলবা সরকার করছে না। সরকার বলবে এটা সংবিধানে নেই। এরকম নষ্ট রাজনীতি তো চলছিলই। দীর্ঘদিন ধরে। তাহলে তোমাদের আন্দোলন। তোমাদের ত্যাগ। এই আন্দোলন যারা জীবন দিয়েছে। যারা পঙ্গু হয়েছে। তাদের জন্য ভাতার যোগান হয়েছে মানলাম। কিন্তু দেশের জনগণকে কি বলেছিলে তোমরা? কোটা সংস্কার করা হবে। বৈষম্য দূর করা হবে। জনগণের স্বার্থে আইন করা হবে। কিন্তু তোমাদের বেলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস কি করেছে? কিছুই না। বতর্মান সরকারের আমলেও তেমন কিছু হচ্ছে না। এখনো যথেষ্ট সময় আছে। কাজ করো। জনগণ এমনিতেই তোমাদের সাথে থাকবে।
অথই নূরুল আমিন
মোহাম্মদপুর ঢাকা বাংলাদেশ।