ঢাকা সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের কাউন্দিয়ায় বাড়ি ফেরার পথে এক ফার্নিচার দোকানের ম্যানেজারকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে এবং ঘটনা প্রকাশ বা আইনি ব্যবস্থা নিলে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের কাউন্দিয়া চাঁদপুর গলির মাথায় লাইফ বেকারির সামনের রাস্তায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জামাল হোসেন (৪২) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সাভারের দক্ষিণ কাউন্দিয়া এলাকার মৃত ফজল করিম ও মৃত রাহেলা বেগমের পুত্র এবং ঢাকার মিরপুর-১ এর ‘কলি ফার্নিচার’ নামক একটি দোকানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
অভিযুক্তরা:
অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— ১. আরাফাত আহম্মেদ রিফাত (২৫), পিতা- নাছির উদ্দিন; ২. সিফাত (২৭), পিতা- নাছির উদ্দিন (উভয় সাং- প্লট নং- ১৩, উত্তর কাউন্দিয়া); এবং ৩. আকাশ (২৮), পিতা- সেলিম, সাং- বুডিরটেক, কাউন্দিয়া; সর্ব থানা- সাভার, জেলা- ঢাকা।
ঘটনার বিবরণ:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ডিউটি শেষে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ভুক্তভোগী জামাল হোসেন উল্লিখিত স্থানে পৌঁছালে অভিযুক্তরা হাতে চাপাতি, লাঠি, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় তার কাছে দোকানের সারাদিনের বিক্রির নগদ ১ লাখ টাকা থাকায় তিনি তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তখন বিবাদীরা তার ওপর এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। ১ নম্বর বিবাদী লোহার রড দিয়ে তার বাম বাহুতে সজোরে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। এ সময় ২ ও ৩ নম্বর বিবাদী লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন, ফলে আঘাত তার চোখে ও ঠোঁটে লেগে রক্তাত্মক জখম হয়।
একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ১ নম্বর বিবাদী তার ডান পকেট থেকে ৪০,০০০ টাকা, ২ নম্বর বিবাদী বাম পকেট থেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং ৩ নম্বর বিবাদী পেছনের পকেট থেকে ২৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীরা প্রাণনাশের ও লাশ গুমের হুমকি দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হয়ে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী।
এ মর্মান্তিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।