আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ১১:১৭

বার : বুধবার

ঋতু : হেমন্তকাল

বানিয়াচংয়ে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৩খুন

 

তাওহীদ হাসান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় একদিনে ৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
খুনীরা ধরাছোয়ার বাইরে। ঘটনা ৩টি ঘটেছে গতকাল ২২জুলাই বুধবার।

প্রথম ঘটনায় প্রতিবেশিদের ধাক্কা ও কিল-ঘুষিতে মারা যান বৃদ্ধা মহিলা কমলা বিবি(৫৫)।
দ্বিতীয় ঘটনায় আততায়ীর হামলায় মারা যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা কামাল মিয়া(৩৫)
তৃতীয় ঘটনায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন বড় ভাই আলী আকবর(৩৫)।

প্রথম খুনের ঘটনাটি ঘটেছে ৩নং ইউনিয়নের দেশমূখ্য পাড়ায় সকাল সাড়ে ১১টায়। নৌকা ঘাটে নৌকা বাধার ঘটনায় তর্ক-বিতর্কের কারনে নিহতের পুত্রবধূ জমিলা খাতুনকে প্রতিবেশি লুকু মিয়া ও তার লোকজন মারপিট করে আহত করে। এ সময় পুত্রবধূকে বাচাতে গিয়ে লুকু মিয়া ও তার লোকজন কমলা বিবিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে কিল-ঘুষি মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলে।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বানিয়াচং স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে।
এবং রাতেই লাশের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা না হলেও , অভিযুক্ত কাউকে আটক করা হয় নাই।

দ্বিতীয় খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার ৭নং বউইউড়ি ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার হাসপাতালের পাশে।

নিহত কামল মিয়া ঐ ইউনিয়নের হলদারপুর গ্রামের আব্দুল মন্নাফের পুত্র।তিনি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
এলাকাবাসী জানান নিহত কামাল মিয়া বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন পার্শ্ববর্তী নবীগঞ্জ উপজেলার এক আথ্মীয়র জানাজার নামায পড়তে।
সন্ধ্যা ৬টায় বাড়িতে ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা একই এলাকার উসমান গনির পুত্র সাইফুল ও তার লোকজন কামাল মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জহম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে রাত সাড়ে ১১টায় কামাল মিয়া মারা যান।

এ ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা হয় নাই। এবং কোন আসামী ও গ্রেফতার করা হয় নাই।

তৃতীয় খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ১০টায় উপজেলার ১নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের বড়বাজার শহীদ মিনার এলাকায়।
নিহত আলী আকবর ঐ ইউনিয়নের চতুরঙ্গরায়ের পাড়ার ইউনুস মিয়ার পুত্র।

এলাকাবাসী জানান,প্রতিদিনের ন্যায় মানসিক ভারসাম্যহীন ছোট ভাই আলী নেওয়াজকে খুজতে বের হয় বড় ভাই আলী আকবর।

অন্যান্য দিনের মত বাড়িতে যাওয়ার কথা বলতেই তর্ক বেধে যায় দুই ভাইয়ের মধ্যে। এক পর্যায়ে ছোট ভাই আলী নেওয়াজ ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই আলী আকবরকে ছুড়িবিদ্ধ করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ আলী আকবরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরন করে। পথিমধ্যেই রাত সাড়ে ১২টায় আলী আকবর মারা যান।

এ ঘটনায়ও ঐ পাগল পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানা ইনচার্য এমরান হোসেন সঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনা তিনটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয় নাই। অভিযুক্তদের আটক করতে থানা পুলিশ কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category