আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১:৩০

বার : সোমবার

ঋতু : বসন্তকাল

জুড়ীতে ঐতিহ্যবাহী পলো বাইচ অনুষ্টিত

জুড়ী প্রতিনিধি-

মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্যকে আবারও জাগ্রত করে তুলেছে জুড়ীবাসী।

আজ ৫ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার কন্টিনালা নদীতে শুরু হয় এ পলো বাওয়া উৎসব।বেলাগাঁও কন্টিনালা যুব ও সমাজ কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে পলো বাওয়া উৎসব উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলাম।এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুম রেজা,জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিতাংশু শেখর দাস, জায়ফরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের দারা, আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী ইলিয়াছুর রহমান ময়না, বেলাগাঁও যুব ও সমাজ কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি জমির আলী প্রমুখ।

উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এতে অংশ নিয়ে পলো বাওয়া উৎসবকে মাতিয়ে তুলেছে কয়েকশ মানুষ।পেশাধার, সৌখিন ও প্রবাসী মাছ শিকারীরা পলো নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন নদীতে। কন্টিনালা সেতু থেকে শুরু করে রাবারড্যাম পর্যন্ত পলো দিয়ে মাছ ধরার মনোরম সে দৃশ্য উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দুরদুরান্তের দর্শনার্থী ভীড় জমান। উপস্থিত সকলের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা,উৎসব ও আমেজের কোন কমতি ছিল না।
পলো দিয়ে মাছ ধরা,এ যেন গ্রামবাংলার এক চিরপরিচিত উৎসব। কিন্তু এখন আর এ উৎসবের আমেজ চোখে পড়েনা। কিভাবেইবা পড়বে এখনতো আগের মত সেই খাল বিল বা ডোবা নালা নেই,যেখানে ভরা বর্ষা মৌসুমে হরেক রকমের মাছগুলি এসে জমায়েত হবে। প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে মৎস্য শিকারীরা মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পলো আর মাছ রাখার ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে সকালে বের হয়ে যেত আর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসতো নানা ধরনের মাছ নিয়ে। গ্রামে বিভিন্নভাবে মাছ ধরার ব্যাপারটা ছিল অনাবিল এক আনন্দের উৎসব। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ফলো বাইচ ধরে রাখার জন্য জুড়ী বাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বেলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে জুড়ী নদীতে পানি কমতে শুরু করলে আশপাশের গ্রামবাসীরা পলো দিয়ে মাছ শিকারের দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে শত শত লোক পলো, জাল, দড়িসহ মাছ শিকারের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে নদীতে হাজির হন। মাছ শিকার উৎসব উপলক্ষে নদীর দু-পাড়ে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।বেলাগাঁও গ্রামের সুরুজ মিয়া জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। বাড়িতে এসে শখের বসে পলো বাইচে এলাম। পলো দিয়ে মাছ শিকারের আনন্দই আলাদা।

শনিবার শিকারিদের অনেকেই বোয়াল, গজার, শোলসহ বিভিন্ন মাছ ধরেন। একজনের পলোতে মাছ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আনন্দে শরিক হন পাশের লোকজনও। মাছ শিকার উৎসবে পলো ছাড়াও ফার জাল, ছিটকি জাল, ঝাকি জাল, পেলুন ইত্যাদি দিয়েও মাছ শিকার করেন অনেকে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, আজকাল নদী-নালা, খালবিল ভরে যাওয়ার কারণে এ উৎসব আর চোখে পড়ছেনা। তারপরও পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসবটি আজকে এক ব্যতিক্রমধর্মী মাত্রা পেয়েছে। এ ধরনের উৎসব ধরে রাখার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category