রাজা মিয়াঃ
২০১৩ সালে এমপি থাকাকালিন সময়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী বিশ্বনাথ শহরের প্রাণকেন্দ্র রামপাশা রোড নতুন বাজারে এক গোলচত্বর নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে তিনি ক্ষমতায় না থাকায় সেই চত্বরের নির্মাণ কাজ আর শেষ হয় নি। এরপর দীর্ঘ ৮বছর ধরে সেটি নামবিহীন অযত্ম-অবহেলায় পড়েছিল। ব্যবহার হচ্ছিল নানা ধরণের ব্যানার-ফেস্টুন টানানো ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কাজে। বিশ্বনাথ পৌরসভায় উন্নীত হলেও কেউ সেই চত্বরের দিকে নজরই দেননি। তবে, চত্বরের নামকরণ নিয়ে অনেক দ্বিধা দ্বন্ধও ছিল।
অবশেষে ২০২১ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক করে এই চত্বরটিকে নিয়ে নতুন এক পরিকল্পনার কথা জানান ওই সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ। তিনি উপজেলার সকল প্রবাসীদেরকে সম্মান ও তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এই চত্বরের নামকরণ করেন প্রবাসী চত্বর। প্রবাসী চত্বরের নকশা করেন নির্মাণিক আর্কিটেক্টসের স্থপতি জিষ্ণু কুমার দাস। ইউএনও সুমন চন্দ্র দাশের এই পরিকল্পনা ও চত্বরের ডিজাইন সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। প্রবাসীরা এই চত্বরের সকল ব্যয় বহণ করতে প্রস্তাব দিলেও সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য তিনি সরকারি বরাদ্ধ থেকেই এই চত্বর নির্মাণ শুরু করেন। চত্বরের প্রায় ৮০ভাগ কাজ শেষ হতেই বদলি হয়ে মালয়েশিয়ার দূতাবাসে ২য় সচিব পদে যোগ দেন সুমন চন্দ্র দাশ। যাবার সময় একটি ফলকে উদ্বোধনের জন্য মোকাব্বির খানের নাম ও আরেকটিতে পরিকল্পনাকারী সুমন চন্দ্র দাশ ও ডিজাইনারের নামের ফলক লাগান।
আজ বুধবার (২৭ এপ্রিল ২০২২) এই চত্বরের শুভ উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় এমপি মোকাব্বির খান। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো আগের দুটি ফলকই ভেঙ্গে নতুন দুই ফলকেই এমপির নাম লেখা হয়েছে। এই চত্বরের পরিকল্পনাকারী সুমন চন্দ্র দাশের বা ডিজাইনার জিষ্ণু কুমার দাসের নাম নেই। এখানে কে বা কারা এমপি সাহেবকে খুশি করতে অতি উৎসাহী হয়ে এই কাজটি করেছেন। এটা যে বা যারা করেছেন, অবশ্যই ঠিক করেন নি। কারণ আমরা বা বিশ্বনাথের সাধারণ মানুষ এবং প্রবাসীরা তো জানেন এই কাজের স্বীকৃতি কার?
এটাই অপরাজনীতির অংশ বলে মনে করছেন স্হানীয়রা।