সিলেট নিউজ ডেস্ক :
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, জন্মভূমি। ১৯৭১ সালের পর থেকে কয়েকটা রাজনৈতিক দলের শাসন আমরা দেখছি আসলে রাজনৈতিক দল/ রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্য হলো একজনের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই আরেকজনের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াই কেউ সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিকদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে না যেটুকু করে সেটাও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পথ তৈরি করতে।২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষ তাদের পুর্ন সমর্থন দিয়েছিল কিন্তু তারাও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দল গঠন করে সেই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে। তাদের কিন্তু উচিত ছিল সামাজিক / অর্থনৈতিক বৈষম্য দুর করতে পদক্ষেপ গ্রহন করা কিন্তু তাদের তেমন কোন পদক্ষেপ দেখছি না।বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দুর করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটা আমার নিজস্ব সুচিন্তিত মতামতের বহিঃপ্রকাশ। আমার গবেষণা ভুলও হতে পারে বা সংশোধন, পরিবর্তন করলে ভালো কিছু ও হতে পারে। এ ধরনের কোন কিছু আপনাদের অনুমেয় হলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দেবেন। নিম্নে আমি আমার মতামত আপনাদের সমালোচনার জন্ম পেশ করছি।
১/ স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তনীয় পদক্ষেপ।
# আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা আমাদের মৌলিক নাগরিক অধিকার। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য খাত বড়ই নাজুক। ডায়াগনস্টিক সেন্টার ডাক্তার, দালালদের হাতে জিম্মি স্বাস্থ্যসেবা। ডাক্তার নামের কসাইদের কাছে গেলেই প্রথমে ৫/৭ টা টেস্ট লিখে নির্দেশিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রিপোর্ট করিয়ে আনতে পাঠায়।সেখান থেকে তারা নিয়মিত কমিশন পায়। দেখিয়ে দেওয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রিপোর্ট না করালে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।সারাদেশে একই অবস্থা। এর থেকে উত্তরনের পথ হলো সরকারি হাসপাতালে মেশিনারী মেরামত ও নতুন মেশিন সংযোজন করা এবং নির্ধারিত ফি দিয়ে সকল রিপোর্ট করানোর ব্যবস্থা গ্রহন করা। সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা। সিমিত খরচে সকল অপারেশনের ব্যবস্থা করা। চাহিদামত ডাক্তার নিয়োগ করা। গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে জনবল নিয়োগ দিয়ে সাধারণ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রিপোর্ট করার জন্য মেশিন স্থাপন করা। অতিরিক্ত ডাক্তার ও কর্মচারীদের বেতন আসবে নির্ধারিত ফি আদায়ের মাধ্যমে। তাহলে চিকিৎসা ব্যায় ৭০% কমে আসবে।বন্ধ হবে ক্লিনিক / ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর গলাকাটা বানিজ্য। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে হয়রানি কম হবে।চিকিৎসা ব্যায় কমবে ৭০%। জেলা হাসপাতালগুলোতে বয়স্ক ও গরীব, অসহায় মানুষেরা দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা ভর্তি থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে সেবা নিবে এবং কিছুক্ষেত্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
২/ শিক্ষার মানোন্নয়নে পরিবর্তনীয় পদক্ষেপ।
# প্রতিটি বিভাগে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে এতিম / গরীব / অসহায়/ কৃষক / শ্রমিক পরিবারের জিনিয়াস/ মেধাবী ছাত্র / ছাত্রীদের বিনামূল্যে লেখা পড়া করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের লেখা পড়া চলাকালীন সময়ে শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে জাতী পাবে প্রকৃত মেধাবীদের।না হলে আমরা যেমন পেয়ে থাকি ঘুষখোর সরকারি কর্মকর্তা। কারন তারা প্রকৃত মেধাবী নয় সবাই। বাবার টাকার জোরে সরকারী কর্মকর্তা হতে পেরেছে। আমরা হারিয়েছি প্রকৃত মেধাবীদের। এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় প্রকৃত মেধাবীরা দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবে।শিক্ষা জীবনে সরকারি সহায়তা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা হলে তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।
৩/ কর্মসংস্থান
# বেকার সমস্যা বাংলাদেশে দিন দিন প্রকট হচ্ছে। পক্ষান্তরে বেকার যুবকেরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ঋন চালু করতে হবে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেনো এই ঋন তাদের জন্মগত অধিকার। দেশে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, উৎপাদন, দেশে বিদেশে বাজারজাত করনে সেল করতে হবে
৪/ প্রবাসী কর্মসংস্থান
# ভুমিহীন, গরীব, অসহায় পরিবারের সন্তানদের জন নতুন প্রবাসী ঋন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সেটা এমন হবে যে প্রশিক্ষণ, পাসপোর্ট, ভিসা এমনকি যাতায়াত খরচ ও তারা বিদেশ যাওয়ার আগে বহন করবে না। বিদেশে পৌঁছে আয় করে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করবে।বর্তমানে যে প্রবাসী ঋন চালু আছে সেটা সবার জন্য মঙ্গলজনক নয়।সবার বাবার জমি নাই যে সেই জমি বিক্রি করে বিদেশে যাবে।তাই এই পদ্ধতি চালু হলে ভুমিহীন, অস্বচ্ছল পরিবারগুলো সমাজের উন্নয়নের ছোয়া পাবে।সামাজিক / অর্থনৈতিক বৈষম্য দুর করতে সহায়ক হবে।
৫/ দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণ
# দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন ব্যবসায়ী যেনো ইচ্ছে মত পন্যের মুল্য বৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য প্রতি উপজেলায় বাজার মনিটরিং এর জন্য ২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
৬/ কৃষি উন্নয়নে
# বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ।সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তাই দেশের উন্নয়নের পুর্বশর্ত কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন। কৃষি উন্নয়নে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ জরুরি
১/ কৃষকদের জন্য মৌসুমী ঋন ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি পন্য উৎপাদন / রোপের শুরুতে ঋন দিতে হবে এবং উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার পর হাটে বিক্রি করে তারপর সামান্য সুদসহ ঋন পরিশোধ করবে।
২/ কৃষকের উৎপাদিত পন্যের দাম নির্ধারণপর জন্য কৃষক কমিটি থাকবে। কৃষকই ফসলের দাম নির্ধারণ করবে।
বি: দ্র: এই কমিটিতে নিরেট কৃষকরাই থাকবে অন্য কেউ থাকতে পারবে না।
৩/ গ্রাম থেকে শহরে কৃষি পন্য পরিবহনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
৭/ আর্থিক খাত।
# প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ টি ব্যাংকের এজেন্ট শাখা স্থাপন করতে হবে। সেখান থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাহকরা সকল লেনদেন করতে পারবে।
১/ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা উত্তোলন
২/ গ্রাহক হিসাবে জমা উত্তোলন
৩/ মোবাইল ব্যাংকিং
৪/ কৃষি ঋন বিতরণ – পরিশোধ
৫/ বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া
৬/ সরকারি সকল ভাতা প্রদান ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ
৭/ অনান্য
৮/ গ্রাম পুলিশ / চৌকিদারের দায়িত্ব বন্টন
# গ্রাম পুলিশ / চৌকিদারেরা সরাসরি মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামি আটক করে ক্যাম্প / থানায় হস্তান্তর করবে।প্রতি সপ্তাহে ওয়ার্ডের মধ্যের মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং সদস্য, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
৯/ সরকারি সাংবাদিক
# প্রতি উপজেলায় ৩ জন সরকারি বেতনভুক্ত সাংবাদিক নিয়োগ দিতে হবে। তারা প্রতিদিন সরকারি দফতরের ও অনান্য দুর্নীতির / অনিয়মের প্রতিবেদন জমা দিবে।
১০/ পুলিশ
# পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষেকে ফাঁসিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।তাই কোন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তাকে অন্যত্র বদলী করলে চলবে না তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে স্থায়ী বরখাস্ত করতে হবে।
১১/ সংবিধান সংশোধন
# বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন / পরিবর্তনের ব্যবস্থা রাখতল হবে । এ পর্যন্ত যতবার সংশোধন / পরিবর্তন হয়েছে শুধু সরকার তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য করেছে। প্রকৃত পরিবর্তন বর্তমানে জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে তাহলে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা কমতে পারে। নিম্মে পরিবর্তনের কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১/ মারামারি মামলা:- বর্তমান ধারা মতে মারামারি মামলা ১ দিনে আসামি জামিন নিয়ে আবারও নতুন করে অপরাধ করে। সে কারনে মারামারি মামলা এই ধারা পরিবর্তন করে নতুন ধারা সংযোজন করা দরকার। মারামারি মামলার আসামি ৩ মাস পর জামিন এবং মারাত্মক আহত হলে ৬ মাস পর জামিনের বিধান রাখতে হবে।
২/ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই মামলায় কোটে উঠলে জামিন পেয়ে যায় তাই অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। সেজন্য চুরি মামলায় ৩ মাস ডাকাতি / ছিনতাই মামলায় ৫ মাস পর জামির বিধান করতে হবে আবার ডাকাতি/ ছিনতাইয়ের সময় ছুরি / চাকু মেরে আহত করলে ৮ মাস পর জামিনে বিধান করতে হবে
৩; হত্যা মামলায় ১৪ মাস পর জামিন পাবে
৪/ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৪ মাস পর জামিনের বিধান ও ১২ মাসের মধ্যে রায় দিতে হবে
৫/ ধর্ষণ মামলায় যদি ২ জনের ইচ্ছায় শারীরিকের প্রমান পেলে ২ জনের শাস্তির বিধান রাখতে হবে। তাহলে সহজে কেউ এ অপরাধে জড়াবে না
৬/ সরকার কর্মকর্তাদের নামে কোন অভিযোগ আসলে বদলী নয় সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে আর অভিযোগ সত্য প্রমানিত হলে স্থায়ী বরখাস্ত করতে হবে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য বিধি বিধান তৈরি করতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে এবং অপরাধ কমে আসবে। এই বিষয়গুলো সরকার / মিডিয়ার সামনে আনার জন্য আমি নিজে যশোর প্রেসক্লাবে ও ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর চিঠি পাঠাবে ও হাইকোর্টে রিট করবে ইনশাআল্লাহ
ধন্যবাদান্তে
মো মাহবুবুর রহমান মোড়ল
পিতা মো আবুল বাশার মোড়ল
সাং চলিশীয়া, ডাক নওয়াপাড়া, থানা, অভয়নগর, জেলা যশোর
মোবাইল নম্বর ০১৩২৩৯০৩৩০৬