শিরোনাম
কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে ডা. বর্ণালী দাশ ইরা’র”লাইট”প্রকল্পর উদ্যোগে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় সাংবাদিকতার আড়ালে কার্ড বাণিজ্য: টাকার বিনিময়ে তৈরি হচ্ছে ‘সাংবাদিক’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজার স্বেচ্ছাসেবক দলে স্বাগত মিছিল দোয়ারাবাজারে কমিউনিটি সেফটি ফোকাল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত সরকারের বাজেট বনাম গৃহহীন, ভূমিহীন, ভাসমান তাদেরও গুনতে হবে বছরে বিশ হাজার টাকার বেশি জকিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যানে প্রার্থী হতে চান হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেয়াল নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা নিলেন জমির মালিক রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল দুধরচকীর শোক প্রকাশ
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বদরের বিজয়:ঈমান,কৌশল ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত

SATYAJIT DAS / ১৯০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫

Manual1 Ad Code

হাফিজ মাছুম আহমদ (দুধরচকী):

১৭ রমজান,বদর দিবস। ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। বদরের যুদ্ধ ছিল মুষ্টিমেয় ঈমানদারদের বিরুদ্ধে বিশাল কুফরি শক্তির অহংকারের লড়াই। কিন্তু এই লড়াই শুধু বাহ্যিক যুদ্ধ ছিল না;বরং এটি ছিল আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা এবং সঠিক কৌশলের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান বদর প্রান্তরে সংঘটিত এই যুদ্ধের দুই পক্ষ ছিল সম্পূর্ণ অসম। একদিকে ছিল ১,০০০ সুসজ্জিত কুরাইশ বাহিনী, যারা অস্ত্র, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং কৌশলে পারদর্শী। অন্যদিকে রাসূল (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন মুমিন সৈন্য,যাদের বেশিরভাগই ছিল নিরস্ত্র, অভিজ্ঞতাহীন এবং সংখ্যায় অনেক কম। কিন্তু তারা যে শক্তি ধারণ করেছিল,তা ছিল ঈমান ও আল্লাহর ওপর অবিচল ভরসা।

 

Manual6 Ad Code

যুদ্ধ শুরুর আগে রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করেন: “হে আল্লাহ! আজ যদি এই মুষ্টিমেয় মুমিনরা পরাজিত হয়,তাহলে এই পৃথিবীতে আর কেউ তোমার দ্বীন প্রচার করবে না। আমাদের বিজয় দান কর।”

 

এই মোনাজাত ছিল বদর যুদ্ধের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি। এই দোয়ার ফলে আল্লাহ ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিম বাহিনীর সাহায্য করেন,যা কুরআনে উল্লেখ রয়েছে:

Manual2 Ad Code

আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন, অথচ সেদিন তোমরা ছিলে অসহায়।” (সূরা আলে ইমরান: ১২৩)

বদরের যুদ্ধ থেকে আমরা শিখতে পারি,শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করলেই হবে না; বরং বাস্তবসম্মত কৌশলও নিতে হবে। রাসূল (সা.) শুধুমাত্র দোয়া করেননি,বরং যুদ্ধের ময়দানে আধুনিক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।

 

তিনি সৈন্যদের দলে ভাগ করে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করেন। একদল সৈন্য তীর ছুড়ে পিছনে চলে আসতো,তারপর অন্য দল সামনে গিয়ে আক্রমণ চালাতো,যাতে শত্রুরা মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা বেশি মনে করে ভয় পায়। মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিভ্রান্ত করতে ছোট ছোট তাঁবু স্থাপন করে এবং বেশি সংখ্যক রান্নার আয়োজন করে,যাতে মনে হয় সৈন্য সংখ্যা অনেক।

 

Manual4 Ad Code

বদরের যুদ্ধ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা দেয়ঃ-

১) আত্মত্যাগ ছাড়া সত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। মুসলিম বাহিনী সম্পদের দিক থেকে দুর্বল হলেও তারা ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান ছিল।

২) দোয়া ও কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করতে হয়। রাসূল (সা.) শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করেননি,বরং কার্যকর যুদ্ধ কৌশলও নিয়েছিলেন।

৩) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম জরুরি। মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব হলো অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা।

Manual7 Ad Code

৪) সংখ্যা নয়,ঈমান ও পরিকল্পনাই আসল শক্তি।

বর্তমান বিশ্বেও মুসলমানরা নানারকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তবে বদরের চেতনা আমাদের শেখায়;সংকট যত বড়ই হোক না কেন,যদি আমরা ঈমানের ওপর অটল থাকি, কৌশলগতভাবে এগিয়ে যাই এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করি,তাহলে যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।

 

আজ আমাদের সামনে বড় দায়িত্ব হলো সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা,ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বদরের যুদ্ধ কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়,এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পথ দেখানোর একটি আদর্শ।

হে আল্লাহ,মুসলিম উম্মাহকে বদরের চেতনায় উজ্জীবিত করুন এবং সত্য প্রতিষ্ঠার পথে আমাদের অটল রাখুন।

আল্লাহুম্মা আমিন।

সিলেট নিউজ/এসডি.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code