সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফুটপাত উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে এক সাংবাদিক ঠিকাদারের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। ঘটনাটির ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের গুহ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার হন দৈনিক কালবেলা পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এসকে দাশ সুমন।
প্রকাশিত ১৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়,গুহ রোডের পাশের ফুটপাতে পুরাতন টাইলস ভেঙে নতুন টাইলস বসানোর কাজ চলছিল। তিনি সরেজমিনে সিমেন্ট-বালুর অনুপাত পরীক্ষা করে অভিযোগ তোলেন যে, মিশ্রণে বালুর পরিমাণ বেশি ও সিমেন্টের পরিমাণ কম। এ সময় কাজের ঠিকাদার কুতুব উদ্দিন এসে সাংবাদিক সুমনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিতে থাকেন। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ঠিকাদার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের অনেকে জানান,পুরাতন টাইলসগুলোর অবস্থা ভালো ছিল। অপ্রয়োজনে নতুন কাজ করে অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে নির্মাণকাজেও মান বজায় রাখা হচ্ছে না।
সাংবাদিক এসকে দাশ সুমন বলেন,“সকাল থেকেই অনিয়মের বিষয়ে অনেকের ফোন পেয়েছি। তাই ঘটনাস্থলে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসি। আমি কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করছিলাম,তখন হঠাৎ ঠিকাদার এসে অশালীন আচরণ শুরু করেন। আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ঘটনার পর একাধিকবার ঠিকাদার কুতুব উদ্দিন-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ইসলাম উদ্দিন বলেন,“ফুটপাতের কাজে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক এম ফয়জুল হক শিমুল বলেন,“একজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অপমান করা জাতির বিবেকের অপমান। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
সাংবাদিক সুমন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন;“আমি যেখান দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করি,সেই জায়গায় এমন অনিয়ম দেখে আমি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। অথচ ঠিকাদার আচমকা এসে অশালীন আচরণ শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। এমন আচরণ সাংবাদিক সমাজের প্রতি অসম্মান।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ জনগণের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন,সরকারি অর্থে কাজ হলেও নেই তদারকি,বরং সাংবাদিকের মুখ বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ চলছে।
সিলেট নিউজ/এসডি.